নাঙ্গলকোটে নকল ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন দুই শিক্ষককে এক বছরের অব্যাহতি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নাঙ্গলকোটে নকল ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন দুই শিক্ষককে এক বছরের অব্যাহতি



কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী,, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

নাঙ্গলকোটে নকল সরবরাহ ঠেকাতে ঢালুয়া উচ্চ বিদ্যালয় জেএসসি পরিক্ষা কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। অপরদিকে বাইয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নকল সরবরাহের অভিযোগে দুই শিক্ষককে এক বছরের জন্য স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার জেএসসি ইংরেজী পরীক্ষার দিনে এসব ঘটনা ঘটে।


পরিক্ষা পরিচালনা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেএসসি পরিক্ষার তৃতীয় দিন সোমবার ইংরেজী পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা


চলাকালে ঢালুয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের নিরাপত্তা দেয়াল টপকে কিছু বহিরাগত পরীক্ষার্থীদের নকল দেয়। সেসময় বিদ্যালয় পরিদর্শন করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লামইয়া সাইফুল। নকল দেয়ার বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর হলে বহিরাগতদের সরিয়ে দিতে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যদের বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় কিছু বখাটে ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন এবং বাউন্ডারী দেয়ালের বাহিরে গালমন্দ করতে করতে মিছিল করেন।


খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়। এসময় নকল সরবরাহের দায়ে দুই বহিরাগতকে আটক করে পরিক্ষা শেষে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।


তবে পরীক্ষা শেষে এই কেন্দ্রের চারপাশ ঘুরে দেখা যায় ছেঁড়া বইয়ের পাতাসহ ছোট ছোট নকলের স্তুপ। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ঢালুয়া উচ্চ বিদালয় কেন্দ্রের নকলের ছোট ছোট টুকরোগুলো কুড়িয়ে নিয়ে স্তুপে স্তুপে আগুন জালিয়ে দিয়েছে। বাইয়ারা বাজার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একইভাবে নকলের ছড়াছড়ি ছিল। এই কেন্দ্রে নকল সরবরাহের অভিযোগে দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাওছার পারভীন ও কহিনুর আক্তারকে এক বছরের জন্য পরিক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তাদের অব্যাহতি দেন কুমিল­া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।


জানতে চাইলে ঢালুয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাছির উদ্দিন বলেন, বহিরাগত কিছু ছেলেপেলে ভেতরে নকল দেয়ার চেষ্ঠা করেছিল। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই পরিক্ষা শেষ হয়। যাতে বহিরাগতরা কোনরুপ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।


ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লামইয়া সাইফুল জানান, আমি ঢালুয়া কেন্দ্রে গিয়ে দেখি কিছু বহিরাগত কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। পরে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। যাতে কোনরুপ বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এছাড়াও নকল সরবরাহের দায়ে দুই বহিরাগতকে আটক করে পরিক্ষা শেষে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে বাইয়ারা বাজার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই শিক্ষককে চলতি বছরের জন্য স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।


কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
নাঙ্গলকোট এর অন্যান্য খবরসমূহ