ভালো নেই! লাকসাম আশ্রয়ন প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ভালো নেই! লাকসাম আশ্রয়ন প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা



এম.এ মান্নান, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কেমন আছে ? লাকসাম উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা। হয়তো জানতে চায়না কেউ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী ভালো নেই তারা। শুরুতে এসব আশ্রয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়মের ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এখানকার বাসিন্দারা। ফলে ভাসমান মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন তো ঘটেইনি বরং তাদের দুর্ভোগ অনেক বেড়েছে। অনেকই আশ্রয়ন প্রকল্পে আসার পর আর্থসামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে পাড়ি জমায় শহরে।


উপজেলা তথ্য অনুযায়ী, সরকার পুর্নবাসনের জন্য ২০১০-১১/২০১২-১৩ অর্থ বছরে লাকসাম উপজেলা নরপাটি, কৃষ্ণপুর গ্রামে ১০.৩৩ একর জমিতে ২টি আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মিত করা হয়। ওই দু’টি আশ্রয়নে ১’শ৭০টি পরিবার অবস্থান করছে, তার মধ্যে শিশুসহ জনসংখ্যা প্রায় ৯”শত জনের বসতি। এরমধ্যে ১০টি পরিবারের জন্য ৪টি বাথরুম, ১টি টিউবওয়েল ও ১টি গোসলখানা রয়েছে। অপরদিকে ২০১১-১২, ২০১২-১৩, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে উপজেলার নরপাটি, সালেপুর, কাগৈয়া গ্রামে ১৩.৯২ একর জমিতে ৩টি গুচ্ছগ্রাম স্থাপিত হয়। এ গুচ্ছ গ্রামে পরিবারের সংখ্যা ১’শ ৫০টি। তারমধ্যে শিশুসহ জনসংখ্যা প্রায় ৮’শত জনের বসতি। প্রতিটি পরিবারের জন্য ১টি ঘর, ১টি টয়লেট, ১টি বন্ধু চুলা ও ৫টি পরিবারের জন্য ১টি টিউবওয়েল রয়েছে।


এসব প্রকল্প গুলোতে সরেজিমনে ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে টিনের বেড়া। ভিতরে প্রবেশ পথ সরু মেঠো। ১০ ফুট পর পর একজোড়া দরজা। প্রত্যেক রুমের ভিতরে কাঠের চৌকি। রুম জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে থালাবাসনসহ অন্যান্য ভাঙ্গা-চুরা আসবাবপত্র।


ভিতরে আলো-বাতাসের পরিবেশ নেই। নির্মাণের পর থেকে অদ্যাবধি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রকল্পগুলো বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পরিবারগুলো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে প্রতিকূলতার সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে তাদের। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট গোসল খানা, আর্সেনিকমুক্ত টিউবয়েল থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু এসব স্যানিটেশন থাকলেও বর্তমানে তা ব্যবহারের অনুপযোগী ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে। টিউবয়েল থাকলেও বেশির ভাগ অচল।


প্রকল্পগুলোতে পরিবারদের জন্য রান্নাবান্নাসহ পুকুরে গোসলের ব্যবস্থা থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রবাভশালী তাদেরকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। এমনকি পুকুরের মৎস্য চাষ করলেও সঠিক ভাবে পাচ্ছে না সুযোগ সুবিধা। বর্তমানে ওই সব আশ্রয়নে বসবাসরত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি আনুকূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।


এসব আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, সরকারের দেয়া প্রতিশশ্রæতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদেরকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।


কোনো কোনো পরিবার সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে ঘর হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠলেও স্বিকার করছেনা কেউ। অন্যের নিকট রুম ভাড়া দিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে অনেকের। কারন হিসাবে জানা যায়, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেকেই ভূমিহীন সেজে নেতাদের সুপারিশে ঘর বরাদ্দ পেয়েছে।


বলা হয়েছিলো আবাসনগুলোতে কমিউনিটি সেন্টার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, হাঁস-মুরগি পালন, সমবায় পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ, কুটির শিল্প ইত্যাদি সুবিধা নিশ্চিত করতে অর্থিক সুবিধা ও প্রতি পরিবারকে খাস জমি, বিনা সুদে ক্ষুদ্র ঋণ, ভিজিএফ কার্ড প্রদান করার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়। এসব কিছুই এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।


পূর্ব লাকসাম ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহম্মদ বলেন, আশ্রয়ন ও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবযাপন করছে। তারপরও তাদের বসবাসের জন্য যে সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন রয়েছে এ বিষয়ে আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।


গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা ছানুবা খাতুন বলেন, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নেই। থাকলেও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরকার পূর্নবাসনের নামে ভূমিহীন পরিবারকে ১টি করে ঘর বরাদ্দ দিয়ে কোনদিন খোঁজ রাখেনি। শুরু থেকে আমরা সরকারি বিভিন্ন সেবা থেকে সম্পূর্ন রূপে বঞ্চিত। ঘর নির্মানের পর আর কোনদিন মেরামত করা হয়নি। প্রতিটি কক্ষের উপরে টিন নষ্ট হয়ে গেছে। প্রত্যেক ঘরের উপর দিয়ে পানি পড়ে। আমাদের পক্ষে মেরামত করা সক্ষমতা নেই।


আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, সিডর ও আইলাসহ বিভিন্ন সময় এলাকায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বিভিন্ন ত্রান আসলেও আশ্রয়ন প্রকল্পবাসিন্দাদের ত্রান বিতরণ আওতায় আনা হয় না। এমনকি ভিজিএফ , ভিজিডি চাউল দেওয়া হয় না।


সামাজিক সাংস্কৃতিক থেকে সম্পূর্ন রূপে ভিন্ন রয়েছে। জেলা, উপজেলা প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, থাকার জন্য ঠাঁই দিয়েছে সরকার তাই আমরা খূশি। ওইসব প্রকল্পগুলোতে পূর্নঃভাবে সংস্কার ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির দাবী জানিয়েছেন বসবাসরত প্রকল্পের বাসিন্দারা।


এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা এ.কে.এম সাইফুল আলম বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তারা সকল সুবিধা ভোগ করছেন। তারপরও আশ্রয়ন ও গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের সমস্যা থাকলে সরকারি অন্যান্য সুবিধা আওতায় আনা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ