বগুড়ায় জমির আইল তুলে সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদে উৎপাদন বেড়েছে

বগুড়ায় জমির আইল তুলে দিয়ে সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদের পাইলট প্রকল্পটি সফল হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রতি একরে ধানের উৎপাদন বেড়েছে গড়ে ১০ মণ। 

মঙ্গলবার জেলার শেরপুর উপজেলার চকপাথালিয়া গ্রামে এই প্রকল্পটির ধান কর্তন অনুষ্ঠানে আসা কৃষকরা এ কথা জানান। 

অনুষ্ঠানে ওই এলাকার কৃষক প্রতিনিধি কাশেম মন্ডল বলেন, আগে এক একর জমিতে আমন ধান উৎপাদন হতো গড়ে ৪০ মণ। আইল উঠিয়ে দিয়ে চাষাবাদ করায় উৎপাদন হয়েছে গড়ে ৫০ মণ। বোরো ধানের উৎপাদনও এমনিভাবে বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।

বগুড়া আরডিএর গবেষণাধীন ‘কৃষি জমির আইল উঠিয়ে দিয়ে সমবায় ভিত্তিক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা’ এর ধান কর্তনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেরপুরের চকপাথালিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন একই মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, বগুড়া-৫ আসনের সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল আহসান। 

আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, বগুড়ার মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ ও পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল, শেরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু। 

বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, মন্ত্রীর নিদের্শে গ্রামবাসীদের নিয়ে অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা সভা এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে জমির আইল উঠিয়ে দিয়ে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ কাজ শুরু হয়। গবেষণা প্রকল্পটির পাইলটিং এলাকায় মোট ৬২টি প্লট ছিল। এই ৬২টি প্লটের মোট আয়তন ৭৫৮ শতক। পরবর্তীতে সেচের পানি ধরে রাখার সুবিধাসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ৬২টি কৃষি জমির আইল তুলে দিয়ে ১৬টি বড় কৃষি প্লট তৈরি করা হয়েছে। এই ৬২টি কৃষি জমির মালিক হলেন মোট ৪২ জন গ্রামবাসী যারা চকপাথালিয়া ও পাশ্ববর্তী ফুলবাড়ি গ্রামে বসবাস করেন।

তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষকদের কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আগ্রহী করে তুলতে এবং তাদের সরেজমিনে ফলাফল দেখানোর জন্য আরডিএ গবেষণার অংশ হিসেবে ট্রাক্টর, ধানের চারা উৎপাদনের যন্ত্র, বীজ রোপন ও চারা তৈরি, মেশিন দিয়ে ধানের চারা লাগানো এবং মেশিন দিয়ে ধান কাটা-মাড়াই ও ঝাড়াইযের কাজে সহযোগিতা করছে। এতে কৃষি শ্রমিকের খরচ কমে আসছে ও বিঘাপ্রতি ধানের উৎপাদন ৩/৪ মণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একে কৃষকরা আগের চেয়ে লাভবান হচ্ছেন।

সুত্র : সমকাল