নাঙ্গলকোটের হোটেল রেস্তোঁরায় ভেজাল পঁচা-বাসি খাবার - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নাঙ্গলকোটের হোটেল রেস্তোঁরায় ভেজাল পঁচা-বাসি খাবার



কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারের হোটেল রেস্তোঁরা গুলোতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ভেজাল ও পঁচা-বাসি খাবার। আর এসব পঁচা-বাসি খাবার খেয়ে জনসাধারণ আক্রান্ত হচ্ছে পেটের পীড়াসহ জটিল ও কঠিন রোগে।


নিয়মিত ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকি না থাকায় হোটেল রেস্তোঁরার মালিকরা জনসাধারণকে অখাদ্য-কুখাদ্য খাবাচ্ছে। সরে জমিনে ঘুরে দেখা যায়, নাঙ্গলকোট পৌর সদরসহ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে অন্তত তিন শতাধিক হোটেল রেস্তোঁরা রয়েছে। এসব হোটের রে¯েঁ—ারার রান্না ঘরের পরিবেশ এতই নোংরা যে কেউ নিজ চোখে দেখলে কখনো হোটেলে খাবার খাওয়ার আগ্রহ থাকবে না। রান্না ঘরের ভেতরে স্যাঁতস্যাঁতে, ময়লা, দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে যায়। তৈরী খাবারসহ খাবার তৈরী সরঞ্জামাদী খোলা থাকায় বসছে মশা-মাছি ও পোকা-মাকড়। অপরিষ্কার পানিতে ধোঁয়া হয় থালা বাটিসহ বিভিন্ন সামগ্রী। হোটল বয়দের মধ্যে অনেকেই থাকেন অপরিষ্কার। এখানে দিনের তৈরী খাবার বিক্রি না হলে কয়েকদিন ধরে এসব খাবার বিক্রি করেন বলেও অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। তাছাড়া খাবার মূল্যও যার যার ইচ্ছে মত সে আদায় করে নেয়। উপজেলা সদরের কয়েকটি হোটেল ঘুরে ক্রেতাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, নোংরা পরিবেশ আর ময়লা আবর্জনার মধ্যে দায় ঠেকায় তারা হোটেলের খাবার খাচ্ছেন। তারা আরো জানান, নিয়মিত ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় হোটেল মালিকরা তাদের ইচ্ছে মত মানুষকে ভেজাল ও পঁচা-বাসি খাবার পরিবেশন করছেন। স্বাস্থ্য পরিদর্শক ভেজাল খাবার তদারকির পরিবর্তে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের হোটেল রেস্তোঁরা থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। উপজেলাবাসীরা জানান, হোটেলের পঁচাবাসি খারার খেয়ে মানুষ বিভিন্ন ধরণের জটিল ও কঠিন রোগব্যাধীতে আক্রান্ত হয়ে একদিকে শারেরীক যন্ত্রনা ভোগ করছে। অপরদিকে প্রতিদিন ডাক্তার ও ওষুধ ক্রয় করে অনেক টাকা ব্যায় করতে হচ্ছে। নিয়মিত ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখলে হোটেল ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকত। এতে কিছুটা হলেও জনসাধারণ স্বাস্থ্যসন্মত খাবার খেয়ে রোগব্যাধী থেকে রক্ষা পেত। হাট-বাজারের হোটেল রেস্তোঁরার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বিশেষ করে প্রাইমারী স্কুল, কেজি স্কুল ও হাইস্কুল এবং মাদ্রাসার সামনে কিছু ভ্রাম্যমার ব্যবসায়ী শিশুদের আর্কষনীয় নিম্মমানের খাবার বিক্রি করে তাও অন্যান্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি খাবার বলে ডাক্তারগণ পরামর্শ দিয়েছে। শিশুরা এসব খাবার খেয়ে অল্পদিনে বিভিন্ন রোগব্যাধীতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার লামইয়া সাইফুল বলেন, জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হোটেল রেস্তেঁরা গুলোতে পঁচাবাসি খাবার পরিবেশন রোধে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা হবে।


কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
নাঙ্গলকোট এর অন্যান্য খবরসমূহ