স্বাধীনতার ৪৮ বছরপরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি হরি নারায়ন ঘোষ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

স্বাধীনতার ৪৮ বছরপরও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি হরি নারায়ন ঘোষ



এম.এ মান্নান, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েও ৪৮ বছরে স্বীকৃতি না পাওয়ায় তার নাম তালিকাভুক্ত হয়নি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের গেজেটে। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। কিন্তু জীবনের শেষ মূহূর্তে একজন দেশপ্রেমিক হিসাবে নিজের নামটুকু মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় দেখে যেতে চান হরি নারায়ন ঘোষ। সে চাঁদপুর জেলা সদরে বালিয়া গ্রামের মৃত মনমোহন ঘোষের ছেলে। ২০০৯ সালে হরি নারায়ন ঘোষ পৈত্রিক জায়গা সম্পত্তি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে বর্তমানে লাকসাম উপজেলা পৌরশহরে পূর্বলাকসাম এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। হরি নারায়ন ঘোষ লাকসাম জংশন এলাকায় পান সিগারেট বিক্রি করে ৬ ছেলে নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।


জানা যায়, চাঁদপুর জেলা সদরে বালিয়া গ্রামের মৃত মনমোহন ঘোষের ছেলে হরি নারায়ন ঘোষ বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চে সরকারি চাকুরী ছেড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ওইসময় পাকিস্তান সরকার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। যুদ্ধকালীণ সময়ে পাকাবাহিনী ছোড়া গুলির আঘাতে আহত হয়ে ভারতের আগরতলা ক্যাম্পে অন্তরভুক্ত হন তিনি। ভারতের ক্যাম্প কমান্ডার এস.বি সাফা শরনার্থীদের সেবাদান করার জন্য তাকে বহালপুর সেন্ট্রাল ট্রানজিট ক্যাম্পে বদলি করেন। বহালপুর ক্যাম্পে কমান্ডারের নির্দেশে শরনার্থীদেরকে খাদ্য, বস্ত্র, ঔষধ ও সুষ্ঠ্যভাবে সরবরাহের মাধ্যমে সেবাদান করেন। ওইসময় ভারতের কামন্ডার এসবি থাপা তাকে কর্মদক্ষতা দেখে সনদপত্র প্রদান করে বাংলাদেশের মাটিতে ফেরত পাঠিয়ে দেন। ভারতীয় সনদপত্রের মাধ্যমে ১৯৯৬ইং সনে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রানালয়ে তালিকাভুক্ত হয় তিনি, যাহার মুক্তি নং ০২০৫০১০৫৮৭ ।


ভারতীয় সনদ ও চাঁদপুর জেলা থানা কমান্ডার সনদপত্রসহ মাননীয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেও কোন প্রতিকার পাইনি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে সনদ পাওয়ার জন্য গত ৫ জানুয়ারী ২০১০ সালে আবেদন করেন যাহার নং ৬৭৪১। অবশেষে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে ৯ আগষ্ট ২০১৪ সালে অনলাইনে আবেদন করেন যাহার ডি.জি নং ১১৮৯৪৯৬ তারপর মন্ত্রনালয়ের সনদপত্র পাননি। ভারতীয় সনদপত্র থাকা স্বত্বেও অনেক চেষ্টা করেও গেজেটভুক্ত হতে পারেনি এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয় সাময়িক সনদপত্র পাই নাই। যাহার জন্য সরকারি ঘোষিত সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে স্ব পরিবার নিয়ে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলায় পূর্ব লাকসাম (কালীবাড়ী) এলাকায় ভাড়া বাসায় নিঃস্ব অবস্থায় দিনযাপন করছে।


হরি নারায়ন ঘোষ দু’চোখের জল ফেলে বলেন, শেষ বয়সে এসে দেখে যেতে চাই মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে আমার নাম দেখে মরে যেতে চাই। আমি কয়েকবার মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করে ব্যর্থ হয়ে নিজের বাঁচার অধিকারের জন্য অবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন অনুরোধ করছি সুষ্ঠ্য ও সঠিক তদন্ত করে আমাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হউক।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ