ভাষা সৈনিক আব্দুল জলিলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ভাষা সৈনিক আব্দুল জলিলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত



মোঃ হুমায়ুন কবির মানিক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার লাকসাম থেকে প্রকাশিত দক্ষিণ কুমিল্লার প্রাচীন সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক লাকসাম’ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ভাষা সৈনিক আব্দুল জলিলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের ২৪ জানুয়ারি লাকসাম মমতাময়ী হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের চন্দনা গ্রামের নিজ বাড়িতে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


ভাষা সৈনিক আব্দুল জলিলের বড় ছেলে নুরুদ্দীন জালাল আজাদের আয়োজনে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়ার অনুষ্ঠানে দৈনিক আজকের জীবন পত্রিকার সম্পাদক মোঃ সফিকুর রহমান, লাকসাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাবেক খিলা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর মঞ্জুরুল আলম, লাকসাম প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান স্বপন, নওয়াব ফয়জুন্নেসা ও বদরুন্নেসা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন হেলাল, মনোহরগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহবায়ক মোঃ হুমায়ুন কবির মানিক, সাংবাদিক মশিউর রহমান সেলিম, আবুল কালাম, আব্দুর রহমান, মোজাম্মেল হক আলম, মাসুদুর রহমান, আব্দুর রহিম, সেলিম চৌধুরী হীরা, বেলাল হোসেন, কাজী মাসউদ আলম, অহিদুর রহমান, আমজাদ হাফিজ, শাহাদাত হোসেন সহ মরহুমের আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালের পহেলা জানুয়ারি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের চন্দনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভাষা সৈনিক আবদুল জলিল। ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার তাগিদে যোগদান করেছিলেন ভাষা আন্দোলনে। ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। তিনি দক্ষিণ কুমিল্লা প্রাচীন সংবাদপত্র ‘সাপ্তাহিক লাকসাম’ এর প্রকাশক ও সম্পাদক।


বিভিন্ন সময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ টেলিভিশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ট্র্যাব), বাসস, বাংলাদেশ বেতার কুমিল্লা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ভাষা সৈনিক আবদুল জলিলকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। তার লেখা নাটক ‘খুনে লাল বাংলা’ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বৃহত্তর লাকসাম ও কুমিল্লা সংক্ষিপ্ত অধ্যায়সহ জনপদ কথামালা, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার সাংবাদিকতার উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহাস, ওগো বঙ্গবন্ধু, সাগর তীরে কেওড়াবনে, পীর মুর্শিদের বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। সত্তরের দশকে তিনি উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিশু সংগঠন কচিকাঁচার মেলা, খেলাঘর ও সুজন মজলিশের আঞ্চলিক সংগঠক হিসেব ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৫৮ সালে নিজ প্রতিষ্ঠিত ‘লাকসাম লেখক সংঘ’র মাধ্যমে তিনি সৃজনশীল লেখক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক তৈরির প্রচেষ্টায় সফল হয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ