লাকসামে করোনা সর্তকতায় ঠেকাতে রাস্তায় ব্যারিকেড - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :
"একটু সচেতনে নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচালে বেঁচে যাবে পুরো বাংলাদেশ"

লাকসামে করোনা সর্তকতায় ঠেকাতে রাস্তায় ব্যারিকেড



দেবব্রত পাল বাপ্পী,, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

করোনাভাইরাস ঠেকাতে গ্রামে বহিরাগতদের প্রবেশ আটকাতে বাঁশ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করলেন যুবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।করোনা বিস্তাররোধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কুমিল্লা লাকসাম উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে ও ওয়ার্ডে সড়কে সড়কে যানবাহন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এ জন্য এলাকাকে নিরাপদ রাখতে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় যুবক ও শিক্ষার্থী জনপ্রতিনিধিরা সড়কে গাছের গুড়ি ও বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়।


জানা গেছে, মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বিশ্বজুড়ে। থমকে গেছে গোটা বাংলাদেশ। এ কারণে সরকারি ঘোষণায় করোনা প্রতিরোধে সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষের সচেতনতা বিষয় ও যান চলাচল বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সড়কে কিছু যানবাহন চলছে। অটোরিকশা মিশুক ও রিকশাভ্যানে চার-পাঁচ যাত্রী ঠাঁসাঠাসি করে বসিয়ে গন্তব্যে রওনা ও মোটরবাইকে দুই-তিনজন উঠে এলাকায় অপ্রয়োজনে ঘুরে বেড়ানো হচ্ছে। এমনকি এক গ্রামের লোকজন অন্য গ্র্রামের ঘিরে চায়ের দোকানে আড্ডা এবং বোখাটে ছেলেরা সড়কে এমনকি মাঠে খেলাধুলা করার কারণে এলাকায় করোনার বিস্তাররোধে যুবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মুখে মাস্ক পরে বেঞ্চ পেতে লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেট সৃষ্টি করে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সেবামূলক কাজে নিয়োজিত যানবাহনগুলোকে সড়কে পারাপার হতে দেখা যায়। অপরদিকে দৌলতগঞ্জ বাজারে সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মুদি, কাঁচাবাজার দোকানগুলো খোলার থাকার নির্দেশনা থাকলেও কিছু অসচেতন ব্যাক্তিরা দোকানের সামনে সাটার খোলা রেখে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এমনকি বিনাকারনে অযথায় বাজারে কিছু ব্যাক্তিরা আড্ডায় জমাচ্ছে। এ কারনে পৌরশহরে বিভিন্ন অলিগলিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সড়কে বাঁশ দিয়ে দৌলতগঞ্জ বাজারে পরিবহন প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়।


উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জনগনের প্রিয় ব্যক্তিত্ব এড. রফিকুল ইসলাম হিরা বলেন, করোনা বিস্তারের বিষয়ে সচেতনতা মূলক বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ প্রতিদিন বাজারে প্রতি ইউনিয়নে মানুষদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। মানুষ বাইরে না বের হতে নানা প্রচারণা চালালেও কিছু অসচেতন মানুষ তারা বিনা প্রয়োজনে মোটরবাইকে ঘুরে বেড়ানো ও জটলা তৈরি করে মিশুক,অটোরিকশা চলাচল করছে। সবাই নিজে সচেতন হলে কেউ রাস্তায় বের হবে না।


কয়েকজন অটোরিকশা ও মিশুক চালক বলেন, করোনাভাইরাসে রাস্তায় না বের হওয়াই ভালো, কিন্তু পেট কিছুই মানে না। ঘরে থাকলে করোনা থেকে বাঁচলেও না খেয়ে মরতে হবে।


এ বিষয়ে উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন শামিম বলেন, রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে অপ্রয়োজনীয় যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরামর্শ পেয়ে যাত্রী-চালকরা খুশি হয়ে ঘরে ফিরেছে। করোনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কাজে একটু হলেও আমাদের এ উদ্যোগ সহযোগিতা হিসেবে কাজে লাগবে বলে বিশ্বাস করি।


পৌরসভার ৬নং ওর্য়াডের জনপ্রতিনিধি আবদুল আলিম দিদার জানান, মহামারী বিস্তাররোধে যুবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তায় যে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছে সত্যি তা প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা একটু সচেতন হই নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচালে বেঁচে যাবে পুরো বাংলাদেশ”।


লাকসাম থানার (ওসি) নিজাম উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, করোনা মোকাবেলায় সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ