মনোহরগঞ্জে অনৈতিক কাজে ধরা পড়লো ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মনোহরগঞ্জে অনৈতিক কাজে ধরা পড়লো ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন



মোঃ খোরশেদ আলম, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিধবা ও এক সন্তানের জননীর সাথে অনৈতিক কাজের সময় হাতে নাতে ধরা পড়লো এক ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে।


এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার ৭নং লক্ষণপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আনোয়ার হোসেন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। পাশ্ববর্তী সরসপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে মৃত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার সম্পর্কের কারণে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। এরই সূত্র ধরে শনিবার মনোয়ারার বাড়িতে মিলিত হয় ইউপি সদস্য ও লক্ষণপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।


এসময় স্থানীয় লোকজন দেখতে পায় মনোয়ারার বিছানায় ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেন ও মনোয়ারা বেগম শুয়ে আছেন। এসময় স্থানীয় লোকজন দেখে চিৎকার করে। তাদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে দেখতে পায় মেম্বার ও মৃত দেলোয়ারের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম খাটিয়া শুয়ে আছে ।


পরে খবর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান এসে স্থানীয় লোকজনকে সান্ত্বনা দিয়ে মেম্বারকে ছেড়ে দেয়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, মেম্বারের নজর আগে থেকেই খারাপ। সে প্রায়ই এলাকার মহিলাসহ তরুণী-কিশোরীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে ওস্তাদ। গত প্রায় ৬ মাস আগে লক্ষণপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামের হালিম মাস্টারের বিধবা মেয়ে রোকেয়া বেগমের সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকে জানান, মেম্বারের কুনজরের কারণে এলাকার অনেক মেয়েই তার কাছে ভিড়তে চায়না। কিন্তু তবুও সে মেয়েদেরকে ইবটিজিং করে। কিন্তু মেম্বার হওযায় মেয়েরা তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনা। এবার সে পরকীয়ার সম্পর্কে ধরা খেলো।


এব্যপারে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ ঘটনাটি অস্বীকার করে বলেন, আমি সেখানে একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করতে যাই। সরকার করোনার মাঝে সকল ধরনের সভা-সমাবেশ, বিয়েসহ সামাজিক সকল অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করেছে আপনি বিয়েতে কিভাবে যান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাকে বিয়ের কথা বলেনি তারা।


সরসপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, স্থানীয় লোকজন আমাকে কল করে যে, অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত আনোয়ার হোসেন মেম্বারকে তারা হাতে নাতে আটক করেছ। পরে আমি গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে। বাড়িতে পাঠিয়ে দেই।


লক্ষণপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মহিন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চরিত্র হীন কোন মেম্বার আমার ইউনিয়নের জনগন মেনে নিবে না। প্রশাসনকে যদি ঘটনা সত্যি হয়ে থাকে এই রকম মেম্বার আমার ইউনিয়নে না থাকে তাকে প্রত্যাহার করা হোক। উল্লেখ্য, ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেনের আগের আরো ২ স্ত্রী রয়েছে। তারপরও সে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
মনোহরগঞ্জ এর অন্যান্য খবরসমূহ