অন্য জেলার সন্ত্রাসীদের হাতে নাঙ্গলকোটের মসজিদ ও বাড়ী ঘরে হামলা ভাংচুর লুটপাট : আহত ১০ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

অন্য জেলার সন্ত্রাসীদের হাতে নাঙ্গলকোটের মসজিদ ও বাড়ী ঘরে হামলা ভাংচুর লুটপাট : আহত ১০



কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার পরিকোট গ্রাম থেকে ২-৩ শ’ সন্ত্রাসী বাহিনী এসে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড় ইউনিয়নের সোনাচাকা গ্রামের বাড়ী-ঘর ও মসজিদে হামলা ভাংচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে। গত বুধবার রাতে দফায় দফায় এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল লুটপাট ও ক্ষতিগ্রস্থের অভিযোগ উঠেছে। সোনাচাকা গ্রামের অন্তত ১০টি বাড়ী ও মসজিদে হামলা ভাংচুর করে। এসময় ১০ জনকে কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। সোনাচাকা গ্রামবাসী হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে এশার জামায়াত চলা কালে মসজিদে আশ্রয় নিয়েও রেহাই পাননি। সন্ত্রাসীরা মসজিদের মুসল্লিদের উপর হামলা চালায় ও মসজিদের মাইকসহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর করে। গ্রামের পুরুষ ও নারীরা হামলা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে অনেকে পুকুরের পানিতে লুকিয়ে থাকে। এ হামলার ঘটনাকে ১৯৭১ সালের হানাদার বাহিনীর হামলার সাথে তুলুনা করেছেন সোনাচাকা গ্রামের হামলার শিকার বয়স্ক ও মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা। সন্ত্রাসী হামলায় আহতরা হলেন, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী ছালেহা বেগম (৫৫), জাহানারা বেগম (৬৫), আব্দুল্লাহ সালমান (২৫) আব্দুর রহমান(২০), দেলোয়ার হোসেন(৩৩), আবুল বাশার জাসেদ(৪০), মো: রকি (২৫), জাসেদ আলম (৪০), রোখসানা বেগম (২২) সহ ১০জন। ঘটনার খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট ও সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।



স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে দৌলখাঁড় থেকে মাছের খাদ্য নিয়ে একটি ভটভটি সোনাচাকা গ্রামের কাদাঁমাটির রাস্তা দিয়ে পাশ্ববর্তী নোয়াখালীর সেনবাগের পরিকোট গ্রামে যেতে চাইলে রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে বলা নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিকোট গ্রামের সন্ত্রাসী জামাল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, গোলাপ ও ভটভটি চালকের নেতৃত্বে ২-৩ শ’ লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় সোনাচাকা গ্রামে হামলা করে। হামলা সময় কমপক্ষে ১১ টি বাড়ী, মসজিদ, একটি মোটর সাইকেল, ফ্রীজ, মসজিদের মাইক ও আসবাবপত্র ভাংচুর এবং ব্যাপক লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা ওই গ্রাম থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ক্ষতিগ্রস্থরা হলো সোনাচাকা গ্রামের জামির আহাম্মদ, সালমান, খোরশেদ আলম, জামসেদ আলম, আবদুল কুদ্দুস, আবদুল ওয়াদুদ, শাহাদাত ভূঁইয়া, জাকের মজুমদার, নূরে আলম ভ‚ঁইয়া, খোরশেদ আলম সাহাব উদ্দিন, ও সোনাচাকা জামে মসজিদ।



সোনাচাকা গ্রামের মাস্টার আব্দুল খালেক, জালাল আহম্মেদ ভ‚ঁইয়া, তোফাজ্জল হোসেন, মজিবুল হক বলেন, আমরা মসজিদে এশার নামাজ পড়া অবস্থায় তারা গ্রামে হামলা করে। পরে সন্ত্রাসীরা মসজিদে গিয়ে ভাংচুর ও মুসল্লিদেরকে বেধড়ক মারপিট করে। তখন অনেকে ভয়ে মসজিদ থেকে পালিয়ে পাশের পুকুরে লাফিয়ে পড়ে আত্ম রক্ষা করে। তারা আমাদের গ্রামে অসংখ্যবার এরকম সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে হামলার পর মুচলেকা দিয়েও পুনরায় হামলা করে।



আহত বিধবা সালেহা বেগম বলেন, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী । পরিকোট গ্রামের সন্ত্রাসীরা দলেদলে এসে আমাদের গ্রামের বিভিন্ন বাড়ীতে হামলা চালায়। আমি প্রাণ ভয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকলে সন্ত্রাসীরা আমাকে বাড়ীর আঙ্গীনায় টেনেহেচড়ে নিয়ে গিয়ে মারপিট করে এবং আমি ও আমার জ্যা’র হাত ভেঙ্গে দেয়।



ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, গ্রামটি দু’ জেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে অনেক বার নোয়াখালীর পরিকোট গ্রামের লোকজন এ গ্রামের উপর হামলা চালায়। আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।



এ ব্যাপারে দৌলখাঁড় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম ভ‚ঁইয়া বলেন, ইতি পূর্বে তারা আমার এলাকার সোনাচাকা গ্রামে অতীতে কয়েক বার হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। সোনাচাকা একটি ছোট গ্রাম হওয়ায় পরিকোটের লোকজন তাদের উপর অত্যাচার করে আসছে। বুধবার রাতে তারা যে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করে আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।



এ বিষয় নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
নাঙ্গলকোট এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ