নাঙ্গলকোটের সেই ধর্ষিতা কিশোরি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের মা হলেও বাবা হয়নি কেউ! - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নাঙ্গলকোটের সেই ধর্ষিতা কিশোরি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের মা হলেও বাবা হয়নি কেউ!



নিউজ ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

নাঙ্গলকোটে সেই ধর্ষিতা সহজ সরল কিশোরি (১৪) অবশেষে ফুটফুটে ছেলে সন্তানের মা হলেও বাবা হলেন না কেউ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) অত্যন্ত গোপনীয়তায় লাকসামের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ওই কিশোরি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। ছেলেটির ঠোঁট কাটা রয়েছে। ভাতিজিকে ধর্ষনের অভিযোগে লম্পট চাচা সোহেল (৪৫) গ্রেফতার জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে শিশুটির ডিএনএ টেষ্ট করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাচা কর্তৃক ভাতিজিকে ধর্ষণে আট মাসের অন্তসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক জানাজানি হলে বিষয়টি ‘টক অব দ্যা নাঙ্গলকোটে’ পরিণত হয়। এ নিয়ে সমাজপতিরা কয়েক দফা সালিশ বৈঠকে বসেও ঘটনাটির কোন সুরাহা না করে সময়ক্ষেপন করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এঘটনায় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। ফলে এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাটির সুষ্ঠু বিচার না হলে কিশোরির ভাই রাসেল তার বোনকে নিয়ে আত্মহত্যার ঘোষণা দেয়।
পরে ১৩ জুন শনিবার বিকেলে নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী পুলিশ ফোর্স পাঠিয়ে কিশোরির ভাই রাসেলকে থানায় নিয়ে আসেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টায় ওই কিশোরি এবং তার পিতাকেও থানায় হাজির করা হয়। রাত ১২টার দিকে কিশোরির পিতা তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ভাই সোহেলকে আসামী করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরেরদিন ১৪ জুন রবিবার সকালে পুলিশ আসামী সোহেলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। ওইদিন কিশোরি চাচা সোহেলকে দায়ী করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একইদিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিশোরির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর মা অসুস্থ থাকায় গত বছরের নভেম্বর মাসে তার পিতা তার মাকে নিয়ে কুমিল্লার একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে যান। চিকিৎসার তাগিদে ওই হাসপাতালের তারা ৫/৬দিন অবস্থান করেন। এ সুযোগে বাড়িতে কেউ না থাকায় চাচা সোহেল কিশোরিকে জোরপূর্বক টানা চারদিন ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে প্রকাশ করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। বিষয়টি প্রথম পর্যায়ে ওই কিশোরি কাউকে না বললেও তার শারীরীক পরিবর্তনে এলাকার সর্বত্রই জানাজানি হয়ে যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এস.আই) আখতার হোসেন জানান, চাচা কর্তৃক ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর মা হওয়ার ঘটনাটি জানতে পেরেছি। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে শিশুটির ডিএনএ টেষ্ট করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ