দেবিদ্বারের যুবলীগ নেতা কামরুলের বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত

কুমিল্লার দেবিদ্বারের যুবলীগ নেতা মোঃ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। গত ২০ মে তার বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন করেন দেবিদ্বারের সুলতানপুর ইউনিয়নের সানানগর গ্রামের মুষ্টিমেয় বাসিন্দা। পরবর্তীতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জানা যায়, যুবলীগ নেতা মোঃ কামরুল হাসান দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি মেম্বার মোঃ ওয়াহেদ আলীর ছেলে। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে ফার্স্ট ক্লাস অর্জন করে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা আইন কলেজে অধ্যয়নের পাশাপাশি ইন্দ্রারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সুলতানপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


তিনি বিভিন্ন সময় নিজ উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে বিভিন্ন ধরণের সহায়তা করে থাকেন। সম্প্রতি করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর তিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নের পাশাপাশি নিকটস্থ শুভাকাঙ্খীদের কাছ থেকে কিছু ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে তা নিজ গ্রামের হতদরিদ্র বাসিন্দাদের মাঝে সুষম ভাবে বন্টন করেন। গত ২০ মে তার বিরুদ্ধে সংগৃহিত ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ এনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন করেন সুলতানপুর ইউনিয়নের সানানগর গ্রামের মুষ্টিমেয় বাসিন্দা। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় একাধিক অনলাইন পোর্টালেও ওই মানববন্ধনের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়। এতে সাময়িক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন যুবলীগ নেতা মোঃ কামরুল হাসান।


পরবর্তীতে এ বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাজাহান সরকার, ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুর রব এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোঃ হুমায়ুন কবির যুবলীগ নেতা কামরুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি তদন্ত করে দেখেন। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী কামরুলের বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি নিজ স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।


এ বিষয়ে সুলতানপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নের পাশাপাশি নিকটস্থ শুভাকাঙ্খীদের কাছ থেকে কিছু ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে তা নিজ গ্রামের হতদরিদ্র বাসিন্দাদের মাঝে সুষম ভাবে বন্টন করেছি। একটি কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে সংগৃহিত ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগ তুলে গ্রামের কিছু সংখ্যক লোককে দিয়ে মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগ করায়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।’


জেলা পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাজাহান সরকার বলেন, ‘যুবলীগ নেতা কামরুলের বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাতের যে অভিযোগটি আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটি শুধুমাত্র একটি ভুল বুঝাবুঝি এবং সমন্বয়হীনতার অভাব মাত্র। এ বিষয়ে আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে বসেছি। আনীত অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা এবং দলীয় স্বার্থে সবাই মিলেমিশে থাকবে এটাই আমি প্রত্যাশা করছি।’


সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সমন্বয়হীনতার অভাব এবং ফেসবুকে অনর্থক লেখালেখির কারণেই বিষয়টি এতদূর গড়িয়েছে। মূলত কামরুল হাসান কোন প্রকার ত্রাণ আত্মসাৎ করেনি। এটা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। আমি আশাবাদী, আগামীতে আমার এলাকার কেউ ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করবে না।’