নাঙ্গলকোটে মুসল্লিদের উপর হামলা, ভাংচুর, লুটপাট - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নাঙ্গলকোটে মুসল্লিদের উপর হামলা, ভাংচুর, লুটপাট



কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভার হরিপুর গ্রামের উত্তর পূর্বপাড়া জামে মসজিদে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মোতয়াল্লী ফজলুর রহমান ও তার ছেলে বিল্লাল’সহ পরিবারের লোকজন কর্তৃক হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীদের লাঠিসোটার আঘাতে ওই মসজিদের মুসল্লি হারুনুর রশিদ, নুরুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম আহত হয়।



স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হরিপুর গ্রামের ফজলুর রহমান মোতয়াল্লী হয়ে গত ৩ বছর পূর্বে একই গ্রামের মরহুম অহমেদ আলীর ওয়ারিশদের যৌথ মালিকানাধীন ২শতক ভূমিতে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিন পর একই গ্রামের পল্লী চিকিৎসক হারুনুর রশিদ, মোতয়াল্লী ফজলুর রহমান, সালাউদ্দিন ও মৃত কালা মিয়ার স্ত্রী ওই মসজিদকে এক শতক করে জমি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে প্রতিশ্রুতি দাতাদের মসজিদের পাশে কোন সম্পত্তি না থাকায় সবাই ফজলুর রহমানের সাথে জমি পরিবর্তন ও তার কাছ থেকে ক্রয় করে মসজিদে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত করে।


এ মোতাবেক হারুনুর রশিদ তার একশতক জমি ফজলুর রহমানের সাথে পরিবর্তন করে ফজলুর রহমানকে দখল বু্ঝিয়ে দেয়, সালাউদ্দিন ও কালা মিয়ার স্ত্রীর নিকট থেকে ২ লাখ করে ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করে ফজলুর রহমান। মসজিদটি এক বছর পাঞ্জেগানা থাকার পর সবাই মিলে জুম্মার নামাজ পড়া শুরু করে, যা আজ দু’ বছর যাবৎ চলছে। 



পরে মোতয়াল্লী  ফজলুর রহমান মসজিদ কমিটির লোকদের সাথে আলোচনা করে কালা মিয়ার স্ত্রীর দেয়া এক শতক জমি বাবত নেয়া দুই লাখ টাকা  মসজিদের খরচের জন্য রেখে দেয়। হারুন রশিদ, সালাউদ্দিন ও ফজলুর রহমানের নিজের প্রতিশ্রুত এক শতকসহ মোট ৩ শতক জমি রেজিষ্ট্রি দেয়ার  বিষয়ে ফজলুর রহমান কালক্ষেপণ শুরু করে। অথচ ফজলুর রহমান হারুনুর রশিদের এক শতক জমি ও সালাউদ্দিনের দুই লাখ টাকা প্রায় ২ বছর যাবৎ ভোগ করে আসছে, এনিয়ে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিদের সাথে ফজলুর রহমানের দূরত্ব সৃষ্টি হয়।



মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন বলেন, ফজলুর রহমান নিজেই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে আমরা সবাই মিলে তাকে মোতয়াল্লী ও সভাপতি মনোনীত করি। মসজিদের পাশে তার জমি থাকায় তিনি অন্যের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত জমি ও টাকা বুঝে নিয়ে এখন মসজিদকে জমি কবলা দিতে গড়িমসি করছে। তাছাড়া সে এবং  তার ছেলে বিল্লাল মসজিদের স্পিকার, মাইক্রিফোন ও পাঁচশত ইট লুটকরে নিয়ে যায়।



মসজিদের ক্যাশিয়ার পল্লী চিকিৎসক হারুনুর রশিদ বলেন, মোতয়াল্লী ও সভাপতি ফজলুর রহমান তার বাড়ীর বাথরুম ও প্রস্রাবখানার ময়লা পানি মসজিদের দিকে দিয়ে দেয়। এনিয়ে  শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মুসল্লিরা প্রতিবাদ করলে ফজলুর রহমান, তার ছেলে বিল্লাল হোসেন’সহ তাদের পরিবারের লোকেরা মুসল্লিদের উপর হামলা ও মসজিদে ভাংচুর চালায় এবং মসজিদে আসার একমাত্র রাস্তাটি কেটে পেলে দেয়।



অভিযুক্ত ফজলুর রহমানের ছেলে ব্যবসায়ী আবু হানিফ বলেন, মুসল্লিরা ১০-১২জন আমার ভাই প্রবাসী বিল্লাল হোসেন’সহ আমাদের পরিবারের ৮ জনকে পিটিয়ে আহত করে ও আমাদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এলাকার কিছু লোক জোর করে মসজিদের জন্য জমি দখল করতে চায় বলেও জানান তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
নাঙ্গলকোট এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ