অবসরে যাচ্ছেন ইন্টেলের সিইও - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

অবসরে যাচ্ছেন ইন্টেলের সিইও



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

নিউজ ডেস্ক, ১ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পল ওতেলিনি আগামী বছরের মে মাসে অবসরে যাবেন বলে পরিচালনা পর্ষদকে জানিয়েছেন। এ অবস্থায় এ পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তি খুঁজছে ইন্টেল। এত দিন সিইও পদে ইন্টেল কোম্পানির ভেতর থেকে নিয়োগ দিলেও এবার বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের। ৪৫ বছর আগে যাত্রা করা ইন্টেল এত দিন কোম্পানির ভেতর থেকেই সিইও নিয়োগ দিয়ে এসেছে। কিন্তু এখন বাজার পরিবর্তিত হচ্ছে। পিসির বাজার আগের মতো রমরমা নেই। গ্রাহকদের পছন্দ এখন ট্যাবলেট ও স্মার্টফোন। এ দুই ডিভাইসের চিপের বাজার এখনো ধরতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তাই বাইরের দক্ষ কোনো ব্যক্তিকে ইন্টেলের দায়িত্ব দিতে আগ্রহী পরিচালনা পর্ষদ। পল ওতেলিনিকে আরও কিছু দিন দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ। এ বিষয়ে ইন্টেলের মুখপাত্র চাক মুলয় রয়টার্সকে বলেন, গত সপ্তাহে ওতেলিনির অবসর ঘোষণার পরিকল্পনা শুনে পরিচালনা পর্ষদ বিস্মিত হয়েছে। তারা আরও কিছু দিন ওতেলিনিকে ধরে রাখতে আগ্রহী।

ইন্টেল থেকে অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬৫ বছর। আগামী মে মাসে ওতেলিনির বয়স হবে ৬২ বছর। এ হিসেবে আরও তিন বছর তিনি চাইলে ইন্টেলে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ইন্টেলের পঞ্চম সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পল ওতেলিনি ৪০ বছর আগে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। ২০০৫ সালে তিনি প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পান।

এ অবস্থায় পিসি থেকে ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনের বাজারে ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে স্থানান্তরের জন্য ইন্টেল বাইরে থেকে কাউকে সিইও পদে বসাতে চাইছে। কিন্তু এ পদের জন্য ইন্টেলের ভেতরেও অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন বলে জানান মুলয়। এ বিষয়ে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ইন্টেলের মতো বড় ও জটিল প্রতিষ্ঠানে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ভেতরের ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে থাকে। তবে ভালো একটি পরিচালনা পর্ষদ প্রধান নির্বাহী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেতর ও বাইরের সব সম্ভাব্য ব্যক্তিকেই যাচাই করে।

চিপের বাজারে এখন আগের মতো অবস্থানে নেই ইন্টেল। পিসিতে ব্যবহূত চিপের একচেটিয়া বাজার ইন্টেলের হাতে। কিন্তু এখন এ বাজার পতনের দিকে। ট্যাবলেট ও স্মার্টফোন চিপের বাজারে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে আরেক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এআরএম হোল্ডিংস।

এভারকোরের বিশ্লেষক প্যাট্রিক ওয়াং বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, বর্তমান সময়টা ট্যাবলেট আর স্মার্টফোনের। ধীরে ধীরে এখানে ইন্টেল বনাম এআরএমের দ্বন্দ্ব তৈরি হবে। এ অবস্থায় নতুন যুদ্ধ শুরুর জন্য ইন্টেলে নতুন একজন সেনাপতির প্রয়োজন।’

ইন্টেলের ভেতর থেকেও এ সেনাপতি নিয়োগ দেয়া হতে পারে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির তিন শীর্ষ নির্বাহীকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ইন্টেল সফটওয়্যার বিভাগের প্রধান রেনে জেমস, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ব্রায়ান ক্রাজনিক ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা স্টেসি স্মিথকে নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এ তিনজনের যে  কোন একজনকেও প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হতে পারে বলে জানান প্যাট্রিক ওয়াং।

১৯৬৮ সালে যাত্রা করে ইন্টেল। এরপর পিসির বাজারে চিপের ৮০ শতাংশ ধীরে ধীরে দখল করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বর্তমানে খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছে না ইন্টেলের। চীন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় পিসি বিক্রি কমছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০১ সালের পর চলতি বছর প্রথমবারের মতো পিসি বিক্রি কমতে পারে।

এ অবস্থায় পিসি বিক্রির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা ইন্টেলের ব্যবসাও পড়তির দিকে। বর্তমানে ইন্টেলের কারখানাগুলো এর উত্পাদনক্ষমতার মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যবহার করছে। এ ছাড়া অবিক্রীত চিপ জমার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তাক্লারাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি এখন স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের পিসির বাজার দখল করতে চাইছে। কিন্তু এখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোয়ালকম, স্যামসাং, এআরএম ও অন্যান্য চিপ নির্মাতার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়ে এ বাজারে সুবিধা করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরাও বর্তমানে ইন্টেল নিয়ে শঙ্কিত। দ্রুত নতুন ডিভাইসের চিপের বাজার ধরতে না পারলে কোম্পানির প্রবৃদ্ধি হবে না বলে

মনে করেন তারা।


পূর্বের সংবাদ