এবারও চ্যাম্পিয়ন রামুর দিদার বলী

এবারও সেরা বলীর খেতাব জিতে নিয়েছেন রামুর দিদার বলী। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে জব্বারের বলী খেলার ১০৫তম আসরে চ্যাম্পিয়ন হতে কোনো বেগই পেতে হয়নি তাকে।

নারায়ণগঞ্জের হাবিবুল বলীকে মাত্র ১৫ সেকেন্ডে হারিয়ে শিরোপার মুকুট পরেন দিদার।

জনসমুদ্র আর মেলার মাঝে বিকাল চারটা থেকেই সবার দৃষ্টি ছিল লালদিঘী ময়দানের রণাঙ্গনে। একের পর এক লড়াই শেষে পাঁচটায় শুরু হয় সেমিফাইনাল রাউন্ড।

প্রথম সেমিফাইনালে বান্দরবারের ক হলাগ্রু মারমাকে হারাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে দিদার বলীকে। ৮০ সেকেন্ডে লড়াই করে কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নাম লেখান ফাইনালে। আরেক সেমিফাইনালে কুতুবদিয়ার খোরশেদ বলিকে সহজেই হারান এবারের রানার্সআপ হাবিবুর বলী। তবে ফাইনালে পারলেন না দিদার বলির রণকৌশল ঠেকাতে। সেই সঙ্গে জব্বারের বলী খেলার ১০৫তম আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের করে নিলেন ১১তম শিরোপাটি।

দিদার বলী বলেন, “যে আশা নিয়ে এখানে এসেছিলাম, সেই আশা পূর্ণ হয়েছে। ১২বার এই জব্বারের বলী খেলায় অংশ নিয়ে ১১বার চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি।”

তিনি বলেন, “জব্বারের বলী খেলায় চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখার জন্য আমি সারাবছরই ব্যায়াম করি। নিয়মিত ভালো খাবার খাই।”

চট্টগ্রামসহ টেকনাফ, রামু, কক্সবাজার, চকরিয়া, বাঁশখালী, পটিয়া, সাতকানিয়া এবং পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে বলিরা লালদিঘী পাড়ে সকাল থেকে জমায়েত হতে থাকে। ১০৪ বছর ধরে বৈশাখের ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা।

লালদিঘী পাড়ে বৈশাখের ১১, ১২, ১৩ এই তিনদিন গোটা বাংলার মানুষ মাতোয়ারা থাকে গ্রামবাংলার অতীত ঐতিহ্যে ভরপুর বৈশাখী মেলায়। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বাংলার ১৩১৬ সালের ১২ বৈশাখ (ইংরেজি ১৯০৯ সালের ২৫ এপ্রিল) বলিখেলা বা মল্লযুদ্ধ দিয়ে শুরু হয় এই বলী খেলা ও বৈশাখী মেলার।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ করেন চ্যানেল আই’র পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার ও চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।