শতশত লোক মালয়েশিয়া পাচার করে প্রকাশ্যে ঘুরছে হোয়াইক্যংয়ের এক শীর্ষ মানব পাচারকারী

কক্সবাজার জেলাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শত শত লোক অবৈধ ও সাগর পথে মালয়েশিয়া পাচারের ভয়াবহ ঘটনার সাথে জড়িত সাহাব উদ্দিন (৩০) বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং এলাকার আব্দু রহিমের ছেলে।

 

বর্তমানে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান হ্রাস পেলে মালয়েশিয়া থেকে ফিরে প্রকাশ্যে নিত্যদিনের কার্যক্রম করে যাচ্ছে। তারাই ধারাবাহিকতায় ২৮ আগস্ট ধুমদাম করে বিবাহ অনুষ্ঠান শেষ করা হয়। নব বধু  স্থানীয় নাজির হোসেন প্রকাশ নাজুর কণ্যা রীনা আক্তার বলে জানা যায়। বাংলাদেশে সে  মাস তিনেক থেকে ফের মালয়েশিয়া পাড়ি জমাবে।

 

জানা গেছে, এক সময় দিন মজুর এবং  জেলে কাজে নিয়োজিত হয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো সাহাব উদ্দিন। বেশীরভাগ স্থানীয় নুরুল আমিন চৌধুরীর মৎস্য ঘেরে মাছ আহরণের কাজ করছিল। সে ৪ থেকে ৫ বছর আগে  মালয়েশিয়া পাড়ি জমিয়েছিল। ওই পাড়ে বসে গড়ে তুলা হয় বিশাল আকারে মানব পাচারের সিন্ডিকেট।

 

পাচারের কাজ সহজ থেকে সহজতর করার জন্য  পর্যায়ক্রমে নিয়ে যাওয়া হয় তার দুই চাচা যথাক্রমে মোহাম্মদ করিম, আব্দুল করিম এবং ভাই যথাক্রমে নুরুল আমিন, নুরুল আজিম ছোটন। তারাই সবাই ওই কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে মানব পাচার কাজে জড়িত। এদের মধ্যে গড ফাদার ওই সাহাব উদ্দিন বলে জানান স্থানীয়রা।

 

খোঁজ খবর নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাহাব উদ্দিন মালয়েশিয়া বসে দীর্ঘ দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত লোক অবৈধ ও সাগর পথে মালয়েশিয়া  নিয়ে যায়। তার পিতা আব্দু রহিম দেশের সব ধরনের লেনদেন চালিয়ে যেত। স্থানীয় ছফর আহমদের ছেলে শাকের প্রকাশ ডালিম আব্দু রহিমকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। পিতা ও পুত্রের আর্থিক লেনদেন হয় ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখার মাধ্যমে বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জননেতা।

 

তার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া স্থানীয়  মৌঃ আজিজুল হকের ছেলে হাফিজুর রহমান প্রকাশ আবুইয়া, মহেশখালীর এক  ভাগিনা মালয়েশিয়া পাচারকালে মারা যায়। হাফিজুর রহমানের মৃত দেহ মালয়েশিয়্রা এক হাসপাতালে রয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যাওয়া অনেক মালয়েশিয়াগামী নিখোঁজ রয়েছে। তাদের মধ্যে স্থানীয় মোঃ বশারের ছেলে ইসমাইল (১৭), আলী মিয়ার ছেলে মোঃ শফিক, আশ্রাফ আলীর ছেলে মোঃ শাকেরসহ বিভিন্ন লোকজন অন্যতম। ওই সিন্ডিকেট মানব পাচারের জড়িত বিষয়টি ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল খলিল চৌধুরী নিশ্চিত করেন।

 

নিহত হাফিজুর রহমানের পিতা মৌঃ আজিজুল হক বলেন, মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে আমার ছেলের মৃত্যু হয়। তারএব্যাপারে আড়াইটার দিকে  পিতা আব্দু রহিমের মুঠোফোন (০১৮১৩২৪৭৬৪৫) বারংবার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

 

হোয়াইক্যং ফাঁড়ী পুলিশের ইনচার্জ উপ পরিদর্শক শামীউর রহমান জানান, তার বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতাউর রহমান খোন্দকার জানান, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।