ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত হেনেছে কক্সবাজারে

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আঘাত হেনেছে কক্সবাজারে । রোয়ানুর প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় গাছ-পালা ও কাঁচা ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজারের ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, কুতুবদিয়া ও শাহপরীর দ্বীপের অনেক অংশে বেড়িবাঁধ না থাকায় সাগরের পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের নুনিয়ার ছড়া এলাকা দিয়ে সাগরের পানি প্রবেশ করে কক্সবাজার বিমানবন্দরের বর্ধিতাংশ প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানান, উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি ধরনের ঘূর্ণিঝড় বয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন থেকে চার ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। কক্সবাজারে আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্রগ্রাম থেকে ৩৯০, কক্সবাজার থেকে ৩৭৫ ও পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে চট্টগ্রাম, পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর ‘বিপদ সংকেত’ দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

কক্সবাজারকে দেখাতে বলা হয়েছে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত সংকেত। ঝড় মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে ঊপকূলীয় এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে আগেই। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা ৪ থেকে ৫ ফুট জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরো শক্তিশালী হয়ে উত্তর উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে আসছে। ঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেসবাহউদ্দিন বলছেন, “ঝড়টি মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসাবে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। উপকূলীয় এলাকাগুলোয় সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিজেরা মাঠে মাঠে ঘুরে সবাইকে সাইক্লোন সেন্টারে যাওয়ার বিষয়াদি তদারকি করছেন। পর্যাপ্ত ত্রাণও মজুদ করা হয়েছে।”

বেসরকারি সংস্থাগুলো এবং স্বেচ্ছাসেবীদেরও এ কাজে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। একই ধরনের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালীসহ অন্য উপকূলীয় জেলাগুলো থেকেও।

শুক্রবার বিকাল থেকেই  অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে নৌচলাচল কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।