কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে নির্বাচন প্রত্যাখান; অবিলম্বে পুনঃরায় নির্বাচন দাবী

কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে নাগরিক কমিটি মনোনিত মেয়র পদপ্রার্থী সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল আজ (২৫ জুলাই) বেলা ২টায় নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আ’লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কর্তৃক ৩৯ কেন্দ্রের প্রায় সবকেন্দ্র ভাড়াটে অস্ত্রধারী চিহ্নিত সন্ত্রাসী ব্যবহার করে কেন্দ্রদখল, জালভোট প্রদান, এজেন্ট বের করে দেয়া এবং সিলমারা ব্যালট জোরপূর্বক বাক্রে ভর্তির প্রতিবাদে নির্বাচন প্রত্যাখানের ঘোষনা দেন এবং অবিলম্বে পুনঃরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, প্রতিটি কেন্দ্রে ৫০০-৮০০ বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে এক ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সরকার দলীয় প্রার্থী মুজিবুর রহমান।

 

আর আইনশৃংখলা বাহিনী তাদেরকে প্রটেকশন দিয়ে ভোট ডাকাতির ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। এমনকি এবিসিঘোনা কেন্দ্রের জনৈক প্রিসাইডিং অফিসার নিজেকে আ’লীগের কর্মী দাবি করেছে। তিনি আরো বলেন, আমার সংবাদ সম্মেলন চলাকালে অন্তত দশটি কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির খবর আমার কাছে এসেছে তম্মধ্যে শহীদ তিতুমীর, টেকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া, হার্ভার্ড কলেজ, পেশকারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, এবিসিঘোনা প্রাথমিক বিদ্যালয়, উমিদিয়া মাদরাসা, হাশেমিয়া মাদরাসা, কলাতলী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাহিত্যিকা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া বাহারছড়া প্রাইমারি স্কুল, কস্তুরাঘাট প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারেরা ভোট দেয়ার জন্য ব্যালট পেপার পায়নি।

 

আ’লীগের এহেন নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য প্রায় সবকটি কেন্দ্রে খাঁটি আ’লীগার বাছাই করে করে প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করেছে যাতে ভোট ডাকাতি নির্বিঘ্ন করা যায়। আমি নির্বাচনের নামে প্রহসনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণে এই নির্বাচন প্রত্যাখান করে পুনঃরায় নির্বাচন দাবি করছি। তিনি বলেন, কক্সবাজারের ইতিহাসে আজকের পৌর নির্বাচন একটি নতুন কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। অতীতে এহেন নির্লজ্জ নির্বাচন কক্সবাজারবাসী প্রত্যক্ষ করেনি।

 

জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং আ’লীগ মিলে এহেন প্রহসনমূলক নির্বাচন আয়োজন করেছে যা দেখে পৌরবাসী বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়েছে এবং ৫ জন মেয়রপ্রার্থীর মধ্যে আ’লীগ প্রার্থী ছাড়া ৪জন প্রার্থীই নির্বাচন প্রত্যাখান করেছেন। আমরা নির্বাচনের পূর্বে বারবার যা আশংকা করেছিলাম পৌরবাসী আজ তা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে যারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন আমার নির্বাচনের জন্য কাজ করেছেন কষ্ট করেছেন আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক কমিটির আহবায়ক গোলাম কিবরিয়া, সাবেক কক্সু ভিপি ছৈয়দ করিম প্রমূখ।