উনছিপ্রাং পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই এতিম শিশু স্বজন হারিয়ে ও নিজ দেশ ফিরতে চাই

মিয়ানমার সেনাবাহীনি গত বছর ২৫ আগস্ট আরকান রাজ্যে রোহিঙ্গা জাতির উপর বর্বর নির্যাতনের কারণে ছোট্র কৌমলমতি দুই রোহিঙ্গা শিশু বাবার হত্যাকান্ডর বেদনা নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেই টেকনাফ উপজেলার উনচিপ্রাং পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে।রাখাইনের সহিংসতা ১বছর পার করে হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে উক্ত দুই শিশু তারপরও চাই নিজ জন্মভুমি মিয়ানমারে ফিরতে।এদিকে এক বছর পার হলেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ার কোন অগ্রগতি নাই।

 

মংডু থানার বলি বাজার গ্রামের মৃত নুরুল আলমের এতিম শিশু নুর হাবিবা (৬) বলেন,গত ১বছর আগে মিয়ানমার সেনাবাহীনির বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার বাবার মৃত্যু হয়।সেই হত্যাকান্ড দেখে আমার মা আমাদেরকে নিয়ে প্রাণ বাচাঁতে রাতের গভীরে পাহাড় ও নাফনদী পেড়িয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেই।বাংলাদেশে আসতে না পারলে হয়ত আমাদের কেও মেরে পেলত। ঘটনার ১বছর পার হলেও এখনো আমরা সেই ভয়ংকর নির্যাতনে দিন গুলো ভুলতে পারিনি।আমরা এখনো চাই আমাদের নিজ দেশ মিয়ানমার আরকান রাজ্যে ফিরতে।মিয়ানমারে নিরাপদ জীবন যাপন ও পড়ালেখা করে অধিকার নিয়ে বাচঁতে।নুর হাবিবা বর্তমানে মায়ের সাথে বসবাস করেন টেকনাফ উপজেলার উনচিপ্রাং পুটিবনিয়া ডি-২ ব্লক বাড়ি নং ১১৩০ এ।

 

বুচিধং থানার হানসামা গ্রামের মৃত মোঃ আয়ুবের এতিম শিশু মোঃ ইসমাঈল (৭) বলেন,গত বছর ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহীনির নিরপত্তা চৌকিতে হামলার ইস্যুর জের ধরে আমাদের গ্রামে সেনা ও রাখাইন উগ্রবাদ গোষ্ঠি যৌথভাবে হত্যাকান্ড শুরু করে।সেই হত্যাকান্ডে তারা আমার বাবা মোঃ আয়ুবকে কিরিস দিয়ে কেটে ফেলে এরপর সব বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেই।সেনা ও রাখাইন উগ্রবাদরা গ্রামের অনেক মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে।তাই মা,সহ আমরা ও অন্যন্যা প্রতিবেশি দের সাথে আশ্রয় পালিয়ে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে চলে আসি।এখন আমাদের স্থান হয় টেকনাফ উপজেলার উনচিপ্রাং পুটিবনিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে ডি-২ ব্লকে বাড়ি নং ১০৭০। রাখাইন রাজ্যের ঘটনার ১বছর পর আমরা বুকে কস্ট নিয়ে বাবাকে হারিয়ে দিনপার করতেছি।রোহিঙ্গা এই এতিম শিশু চাই নিজ দেশ মিয়ানমার ফিরতে।

 

উক্ত দুই এতিম রোহিঙ্গা শিশু গিপ্টিং হিউমিনিটি নামে পরিচালিত একটি সেচ্ছোসেবী প্রতিষ্ঠানের স্কুলে মিয়ানমার দেশের পড়ালেখার শিখার পাশাপাশি এক বেলা খাওয়ার পাচ্ছে।