হোয়াইক্যংয়ে গলাকাটা অবস্থায় ৩ রোহিঙ্গা উদ্ধার, নিখোঁজ ৩ জন

টেকনাফ উপজেলার একটি পাহাড় থেকে গলাকাটা অবস্থায় আহত তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গী আরও তিন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন। কাজ দেওয়ার নাম করে ছয় রোহিঙ্গাকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

 

পুলিশ জানায়, উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল আশ্রয়শিবিরের পাশের পাহাড় থেকে ০৩ আগস্ট সোমবার সকালে গলাকাটা অবস্থায় তিনজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের গলা কেটে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উখিয়া রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। উদ্ধার করা তিনজনের মধ্যে দুজনের নামের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই দুজন অল্পস্বল্প কথা বলতে পারছেন। তাঁরা হলেন মো. নুরুল আলম (৪৫) কুতুপালং ও আবদুল খালেক (২৩)পিতা বালুখাণি বি-৩ ব্লক পিতাঃ ছৈয়দ হোসন। আহত আরেকজন কথা বলতে পারছেন না। তাঁর নাম মো. আনোয়ার হোসেন (৩৩) পিতাঃ আব্দুল গাফ্ফার কতুপালং ই-৩ ব্লক বলে জানা গেছে।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ(ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ থানার পুলিশ চাকমারকুল আশ্রয়শিবিরের পাশের পাহাড়ি জঙ্গল থেকে গলাকাটা অবস্থায় তিন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের দ্রুত স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে বেলা ১১টার দিকে তিন রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত তিনজনের মধ্যে দুজন কিছুটা কথা বলতে পারলেও তৃতীয়জন একেবারেই কথা বলতে পারছেন না। তাঁর কণ্ঠনালি কেটে গেছে। ওসি জানান, আহত তিনজন উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা।পুলিশ মনে করছে, মুক্তিপণের জন্য ছয়জন রোহিঙ্গাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

 

ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, অনুসন্ধান চালিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, শ্রমিক হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা বলে উখিয়ার বালুখালী শিবিরের ছয় রোহিঙ্গাকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে তুলে নেওয়া হয়। তাঁদের প্রথমে টেকনাফের হোইয়াক্যং এলাকার চাকমারকুল আশ্রয়শিবিরের নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাঁদের নেওয়া হয় পাশের পাহাড়ের জঙ্গলে।

 

ওসি বলেন, সম্ভবত মুক্তিপণ আদায়ের জন্য ভয় দেখাতে তিন রোহিঙ্গার গলা অল্প করে কাটা হয়েছিল। হত্যার পরিকল্পনা থাকলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো। নিখোঁজ অপর তিনজন রোহিঙ্গাকে উদ্ধারে পাহাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।