ফরহাদ মজহার দম্পতির বিরুদ্ধে ডিবি’র মামলা

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার এবং তার স্ত্রী ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে।
অপহরণের মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা দায়ের করায় বৃহস্পতিবার মজহার দম্পতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৯/২১১ ধারায় আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) গোলাম মোস্তফা রাসেল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আদালতে প্রসিকিউশন দাখিলের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। অনুমতি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, যে ধারায় সস্ত্রীক ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে তাতে সর্বোচ্চ তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড হওয়ার বিধান রয়েছে।
এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর শ্যামলীর বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে ফরহাদ মজহার দাবি করেন, তিনি কোনো নাটক করেননি। চাপ দিয়ে তাঁর জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। তবে ডিবি বলছে, ফরহাদ মজহারের এই ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়।

গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ফরহাদ মজহার ও ফরিদা আখতারের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম। আদালত তা আমলে নিয়ে বিচারকাজ শুরুর নির্দেশ প্রদান করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ফরাহদ মজহার ও তার স্ত্রী মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।

মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন ও মিথ্যা মামলা করে বিভ্রান্ত ও হয়রানি করার অভিযোগে ডিবি পুলিশ ফরহাদ মজহার ও স্ত্রী বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন দাখিলের আবেদন করলে আদালত গত ৭ ডিসেম্বর মামলা করার আদেশ দেন। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম আদালতে ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়নি মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

গত ৩ জুলাই ভোর রাতে মোহাম্মদপুর রিং রোডের হক গার্ডেনের নিজ বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার। এরপরই স্বজনরা জানান, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। ওই রাতে তাঁর স্ত্রী ফরিদা আখতার আদাবর থানায় অপহরণ মামলা করেন। রাতেই র‌্যাব-৬ যশোরের নওয়াপাড়া থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে। পরদিন তাঁকে ঢাকার মিন্টো রোডের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করলে ফরহাদ মজহার জবানবন্দি দেন।