লাকসাম জংশন থেকে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে সাত মাসে অর্ধশতাধিক ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

লাকসাম জংশন থেকে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে সাত মাসে অর্ধশতাধিক ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

লাকসাম প্রতিনিধি.
পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের গেটওয়ে খ্যাত লাকসাম রেলওয়ের জংশন থেকে চাঁদপুর-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে লাকসামসহ বিভিন্ন স্থানে গত ৭ মাসে অর্ধশতাধিকবার ট্রেন দুর্ঘটনার হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একেরপর এক লাইনচ্যুতিসহ ট্রেন দুর্ঘটনায় রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থেকেছে রেল যোগাযোগ। রেলওয়ের উন্নয়ন ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবসহ নানামুখী সমস্যা আর সংকটের কারণে এ দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়েই চলেছে। ফলে ট্রেনযাত্রীরা যান-মালের নিরাপত্তাহীনতাসহ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
জানা যায়, ফেনী-লাকসাম-কুমিল্লার রাজাপুর পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। তাছাড়া, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রেললাইন সংস্কার না হওয়া, নিয়মিত সংস্কারের অভাব, চালক ও স্টেশন মাস্টারের দায়িত্বে অবহেলা, ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ, রেলপাত ও কোচের চাকা ক্ষয়ে যাওয়া, অবৈধ রেলক্রসিং, রেলের নাটবল্টু ঢিলা হওয়া, স্লি−পার ও পাথর কম থাকা, সি−্লপারের সঙ্গে রেললাইন আটকে রাখার পেন্ড্রোল ক্লিপ, হুকবল্ট, বিয়ারিং, পে−টসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ায় লাইনচ্যুতিসহ ট্রেন দুর্ঘটনা অন্যতম কারণ। গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথের বিভিন্ন স্থানে ৭৪ বার ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে ৬৩ বার। অন্য ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে ১১ বার। গত জুলাই মাসে কেবল ট্রেন দুর্ঘটনা ও লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে ১৭ বার। এখনো প্রতি সপ্তাহে এক বা একাধিক ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক মাসে দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতর আগে এবং গত বুধবার কুমিল্ল−ার রাজাপুর স্টেশনে এবং গত ২৯শে মে ময়নামতি স্টেশনে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এসব দুর্ঘটনায় সরকারের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং রেলওয়ের সিডিউল বিপর্যয় ঘটে।
রেলসূত্র জানায়, ফেনী-লাকসাম-কুমিল্ল−ার রাজাপুর স্টেশন পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রেলপথের লাকসাম, লালমাই, ময়নামতিসহ বিভিন্ন স্থানে লাইনচ্যুতিসহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া, চোরাচালানীরা যখন-তখন চেইন টেনে কিংবা অন্যভাবে ট্রেন থামানোর চেষ্টাকালেও ঘটছে দুর্ঘটনা। ছোটখাটো দুর্ঘটনা হলেও সরকারের লাখ টাকার ক্ষতি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি; এমনকি কোটি টাকা পর্যন্ত হয়। এসব দুর্ঘটনায় পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের ঢাকা-লাকসাম- চট্টগ্রাম, সিলেট-চট্টগ্রাম, চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, নোয়াখালী-ঢাকা, চট্টগ্রাম-ভৈরব-ময়মনসিংহ রেলপথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থেকেছে ট্রেন চলাচল। এসব দুর্ঘটনায় সরকারের বিপুল অংকের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও ট্রেনযাত্রীদের সময় ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে অপূরণীয়। এসব দুর্ঘটনায় যাত্রীসাধারণের জান ও মালের নিরাপত্তাহীনতাসহ দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।
পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের লাকসাম জংশনের স্টেশন মাস্টার পিতুরঞ্জন ভুঁইয়া ট্রেন লাইনচ্যুতির বা অন্যান্য দুর্ঘটনা বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেন নি। এ জংশনের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত অফিস না করাসহ দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থাকলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনজর নেই। ফলে ট্রেন চলছে ঢিলেঢালাভাবে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে লাকসামে কর্মরত রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ পাশা জানান, জনবলের অভাব, ইঞ্জিন, কোচ ও লাইন পুরনো, বর্ষা মওসুমে মাটি নরম থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।


জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০