সরকারের মদদে রামুতে হামলা, বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

ঢাকা, ১২ অক্টোবর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে কক্সবাজারের বৌদ্ধ বিহারের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়ে ছিল বলে অভিযোগ করেছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির তদন্ত কমিটি।এ ঘটনায় একজন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ প্রধান বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় কমিটি।শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এ আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আগামী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে চিহ্নিত করে ক্ষমতায় থাকাতে বিদেশিদের সমর্থন আদায়ে সরকারের লোকেরা এ হামলা চালিয়েছে। মওদুদ বলেন, এ ঘটনার সাথে স্থানীয় বিএনপিদলীয় এমপির সম্পৃক্ততা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি মূলত এসব মন্তব্য করে তদন্তকাজকে বাধাগ্রস্ত এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে দোষীদের রক্ষা করতে চান।

তিনি বলেন, ওই দিন প্রশাসন তাদের দায়-দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করলে ওই ঘটনা এ বড় এতো বড় আকার ধারণ করতো না। এতে প্রমাণিত হয় ওই ২৪ ঘণ্টা দেশে কোনো সরকার ছিল না।

ঘটনার কত সময় পর প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেই বিষয় অবগত হয়েছেন এবং কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা জাতি জানতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তদন্ত কমিটির প্রধান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় থানা এক কিলোমিটারের মধ্যে, সেনা ক্যাম্পের দূরত্ব চার কিলোমিটার। কিন্তু ওই সময় প্রশাসনের কেউ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এগিয়ে আসেনি।

তিনি বলেন, ‘কক্সবাজারের এ ঘটনায় আমরা লজ্জিত, দুঃখিত। বিএনপি সাম্প্রদায়িকতায় নয়, অসাম্প্রাদয়িকতায় বিশ্বাস করে। আর সে কারণেই ঘটনার পরই আমাদের চেয়ারপারসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।’

মওদুদ দাবি করে বলেন, ‘আমরা দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এ তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গত ৫ ও ৬ অক্টোবর ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় ৬০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছি। তার ওপর ভিত্তি করে আমরা ৬৭টি পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে ৩৩ জনের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করেছি।’

তদন্ত কমিটি প্রধান বলেন, হামলার সময় রামুতে ৭টি, উখিয়ায় ৩টি, টেকনাফে ১টি ও পটিয়াতে ৩টি বৌদ্ধবিহার ভেঙ ফেলা হয়েছে এবং শত শত ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেখানকার মানুষ এখনো নিরপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

তিনি বলেন, যাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত সেই উত্তম কুমারকে এখনো সরকার জাতির সামনে আনতে পারেনি। এমনকি বিহারসহ বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে হামলা চালানো হলেও ঘটনার নায়ক উত্তম কুমার বড়ুয়ার বাড়ি অক্ষত রয়েছে। এতে এখন স্থানীয়দের মধ্যে বিম্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

মওদুদ আহমদ বলেন, সরেজমিনে তদন্ত শেষে করে ঘটনার তিনটি বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় সর্বত্র প্রশাসনের অনুপস্থিতি। ধ্বংসযজ্ঞে গান পাউডার ব্যবহার এবং হামলাটি ছিল সুপরিকল্পিত।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপ বিদ্যমান। যার মধ্যে একটি পক্ষের নেতৃত্ব দেন সাবেক পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। তার নেতৃত্বেই সেদিন প্রথম মিছিল বের করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের মওদুদ তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন।

সুপারিশগুলো হলো- এক. একজন অবসরপ্রাপ্ত সাবেক জেষ্ঠ্য প্রধান বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন। ওই কমিটিকে সুষ্ঠুভাবে তদন্তকাজ করতে সহযোগিতা প্রদান।

দুই. গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারদলীয় যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং এসব এলাকার নিরীহ মানুষকে হয়রানি বন্ধ।

তিন. যত টাকা ব্যয় হোক না কেন ধ্বংস হওয়া সকল মন্দিরগুলো পুনর্নির্মাণ একং লুট হওয়া স্বর্ণের বৌদ্ধমূর্তি উদ্ধার। ঘর-বাড়ি হারানো মানুষকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে সর্বাত্মক সরকারি সহযোগিতা দেয়া।

এ সময় কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহম্মেদ, গোলাম আকবর খোন্দকার, অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী ও অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।