টিআইবির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হবে না: ইনু

ঢাকা, ২০ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানিয়েছেন সংসদ সদস্যদের ‘হেয়’ করে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য টিআইবির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হবে না । ওই প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সংসদে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তীব্র সমালোচনার একদিন বাদে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে একথা জানান তিনি। তবে মন্ত্রী একইসঙ্গে বলেছেন, জার্মানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ শাখার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে তা মূল কার্যালয়ে জানানো হবে। দেশের অর্ধেক সংসদীয় আসনের সদস্যদের ওপর ‘গবেষণা’ চালিয়ে টিআইবি গত ১৪ অক্টোবর এক প্রতিবেদনে বলে, সংসদ সদস্যদের ৯৭ শতাংশই বিভিন্ন ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত।

সোমবার সংসদ সদস্যরা একযোগে টিআইবির সমালোচনায় মুখর হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের তলবের দাবি তোলেন তারা। দাবি করেন জার্মানভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের এ দেশে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ারও।

মঙ্গলবার সংসদ সদস্য ফজিলাতুননেসা বাপ্পীর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনো ব্যবস্থা নেয়ার (টিআইবির বিরুদ্ধে) দরকার নেই, জনগণই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।”

“আমরা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের হেড কোয়ার্টারে জানাব, আমরা এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করছি। তারা যেন এটা বাদ দিয়ে একটি পরিপূর্ণ প্রতিবেদন পাঠায়,” বলেন তিনি।

সোমবার সংসদ সদস্যদের দাবি শুনে স্পিকার আবদুল হামিদ বলেন, তিনি জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

টিআইবির ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তথ্য মন্ত্রণালয় তা চেয়ে পাঠায়, মন্ত্রী তা পর্যবেক্ষণও করেছেন।

ইনু বলেন, “সার্বিকভাবে গবেষণাটি সুনির্দিষ্ট নেতিবাচক ধারণার ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

“টিআইবি উদ্দেশ্যমূলক ও সচেতনভাবে সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করতে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।”

সোমবার আলোচনায় অংশ নেয়া মহাজোটের অধিকাংশ সংসদ সদস্য মাত্র ৬০০ জনের মতামত নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেন। নির্বাচনের এক বছর আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশের অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন।

টিআইবির প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইচ্ছামতো উত্তরদাতা নির্বাচন করে, সুনির্দিষ্ট নেতিবাচক নির্দেশক প্রশ্নমালার অধীনে পরিচালিত করে একটি সুনির্দিষ্ট নেতিবাচক লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

“আমরা দেখতে পেলাম, ওই রিপোর্টে কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই; যাতে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়। আমরা অবাক হয়েছি- কেন অত্যন্ত দুর্বল এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হল।”

“অনেকেই দুর্নীতি করে। কিন্তু, রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ বলা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। টিআইবিও তাই করেছে,” বলেন জাসদ সভাপতি ইনু।

টিআইবির জরিপ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, “কীসের ভিত্তিতে টিআইবি ৩২০টি দৈনিকের মধ্যে পাঁচটি দৈনিক বেছে নিল।”

“তাদের উপাত্ত হল পাঁচটি দৈনিক, পার্লামেন্ট ওয়াচ এবং তাদের পছন্দমতো সচেতন জনগোষ্ঠি, যার সংজ্ঞা তারা নিজেরাই (টিআইবি) তৈরি করেছে।”

ইনু জানান, এই জরিপের ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। সনাক পরিচালনা করে টিআইবি। যেখানে সনাক নেই, সেখানে এই জরিপ পরিচালিত হয়নি।

“প্রশ্নগুলো পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, টিআইবির এই আলোচিত গবেষণা কাজটিতে সামাজিক গবেষণায় অনুসৃত পদ্ধতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।”

“বিষয়বস্তু অনুযায়ী যে ধরনের পদ্ধতি প্রয়োজন, সে ধরনের পদ্ধতি প্রয়োগ না করে টিআইবি পূর্বধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার সুবিধামতো পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।”

সংসদ সদস্যদের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, হেয় করা নয়, বরং সংসদ সদস্যদের ভূমিকা যেন আরো জোরদার হয়- সে সুযোগ সৃষ্টি করতেই এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

“সংসদকে আবমাননা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়,” মঙ্গলবার সকালে এক অনুষ্ঠানে বলেন তিনি।

প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণের জন্য তথ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, মন্ত্রী যেসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তার উত্তর টিআইবির ওয়েবসাইটেই দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।