জাতীয় নির্বাচন কুমিল্লা জেলা নিয়ে গোয়েন্দা জরিপ : বিএনপি ৯, আওয়ামী লীগ ২!

কুমিল্লা, ২১ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপির। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেতে পারে বাকি দুটি আসন। আগাম এ ধারণা পাওয়া গেছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তৃণমূল পর্যায়ের জরিপ প্রতিবেদনে। জরিপের এ তথ্য গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। ২০০৮-এর নির্বাচনে কুমিল্লার ১১ আসনের মধ্যে ৯টিতে আওয়ামী লীগ এবং দুটিতে বিএনপি জয় পেয়েছিল। নির্ভরযোগ্য সূত্রে গোয়েন্দা জরিপের এসব তথ্য জানা গেছে।  কুমিল্লার ১৬টি উপজেলার ১১টি সংসদীয় আসনের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি জরিপ চালায়। এসব প্রতিবেদনে ১১টি আসনের প্রতিটিতে বর্তমান সংসদ সদস্য, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের অবস্থান তুলে ধরা হয়। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে যাঁদের অবস্থান খারাপ এবং কেন খারাপ, তার কারণও তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে ধারণা দেওয়া হয়, বেশি আসন পেতে ক্ষমতাসীন দলের করণীয় সম্পর্কে। এসব গোয়েন্দা জরিপে বিরোধী দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান কেন ভালো এবং কেন তাঁরা জয়লাভ করতে পারেন, তার ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে তুলে ধরা হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের তথ্যও।

গোয়েন্দা জরিপের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা-১ আসন থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বা তাঁর ছেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, কুমিল্লা-২ থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার, কুমিল্লা-৩ থেকে বর্তমান সংসদ সদস্য বিএনপির শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, কুমিল্লা-৪ থেকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, কুমিল্লা-৫ থেকে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, কুমিল্লা-৬ থেকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-৭ থেকে এলডিপির মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদ অথবা বিএনপির কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি খোরশেদ আলম, কুমিল্লা-৮ থেকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-৯ থেকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিম, কুমিল্লা-১০ থেকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভুঁইয়া অথবা মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া, কুমিল্লা-১১ থেকে আওয়ামী লীগের রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব বিজয়ী হতে পারেন বলে ধারণা দেওয়া হয়।

 কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) : এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আগামী নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারেন বলে জরিপে বলা হয়েছে। যদি ড. মোশাররফের ছেলে ড. খন্দকার মারুফ হোসেনকেও প্রার্থী করা হয়, তাহলেও সেখানে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়া পরাজিত হতে পারেন। তবে হাসান জামিল সাত্তার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলে পরাজয়ের ব্যবধান কম হবে।

 কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) : এ আসনে বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ারের বিজয়ের নিশ্চিত তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দা জরিপে। সেখানে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ ও শিল্পপতি মাহাবুবুর রহমান।

 কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) : বর্তমান সংসদ সদস্য বিএনপির শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদেরই এ আসনে জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন অথবা কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার যেই হোক না কেন- ফলাফলে তেমন হেরফের হবে না। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বিএনপির প্রার্থী হলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগের ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে জাহাঙ্গীর আলম সরকার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হলে ব্যারিস্টার রফিক বিজয়ী হতে পারেন।

 কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): কুমিল্লার দেবিদ্বার আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি বিজয়ী হতে পারেন আর ভরাডুবি হতে পারে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য এ বি এম গোলাম মোস্তফার।

 কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) : কুমিল্লার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ প্রার্থী হলে অন্তত ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে আবদুল মতিন খসরু জিততে পারেন। তবে এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইউনুস বিএনপির প্রার্থী হলে ৫ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে মতিন খসরু হেরে যেতে পারেন বলে জরিপে তথ্য রয়েছে।

কুমিল্লা-৬ (সদর) : এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য হাজি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার সম্পর্কে জরিপে বলা হয়েছে, শহরের বাইরের এলাকাগুলোতে তাঁর অবস্থান ভালো থাকলেও শহরে সমস্যা রয়েছে। এর সঙ্গে আছে দলীয় কোন্দলের সমস্যা।

 কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) : আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ, এলডিপির মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদ, বিএনপির কুমিল্লা উত্তর জেলা সভাপতি খোরশেদ আলম- এই তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলে রেদোয়ান আহমেদ বিজয়ী হতে পারেন এ আসনে। আর বিএনপির খোরশেদ আলম বা এলডিপির রেদোয়ানের মধ্যে যেকোনো একজন প্রার্থী হলে তিনিই বিজয়ী হবেন।

 কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) : বরুরা আসনে বিজয়ী হতে পারেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল হাকিম যেই মনোনয়ন পান না কেন, ফল বিএনপির পক্ষেই যেতে পারে।

 কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) : এ আসনে গ্রুপিং না থাকলে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিমের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তবে গ্রুপিং চাঙ্গা থাকলে এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মজির আহমেদ মনোনয়নের বিষয়ে অনড় থাকলে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম বিজয়ী হতে পারেন।

কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট) : বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভুঁইয়া বা মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার মধ্যে যেকোনো একজন প্রার্থী হলে এ আসনটি হতে পারে বিএনপির। বিএনপির দুজন প্রার্থী হলে আবারও বিজয়ী হতে পারেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)। লোটাস কামালের অবস্থা নাজুক বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

 কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) : এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ও রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদ এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের- এই তিন প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে জামায়াতের ডা. তাহের নির্বাচিত হতে পারেন। মহাজোটের একক প্রার্থী হলে বিজয়ী হবেন মুজিবুল হক মুজিব। তবে কাজী জাফর আহমদকে মহাজোটের একক প্রার্থী করা হলে জামায়াতের ডা. তাহের বিজয়ী হবেন বলে গোয়েন্দা জরিপে বলা হয়েছে। সূত্রঃকালেরকণ্ঠ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।