টাকা ছিনতাই করলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রলীগ কর্মী

কুমিল্লা, ২৩ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনতা ব্যাংক শাখা থেকে টাকা তুলে যাওয়ার পথে কোটবাড়ি জাদুঘরের কাছ থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রলীগ কর্মী ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে সাড়ে ৪১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। একাধিক সূত্র জানান, কোম্পানীগঞ্জের হাজী মটরসের স্বত্ত্বাধিকারী পলাশ নামের এক ব্যবসায়ী তার পাওনা টাকা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় জনতা ব্যাংকের শাখায় আসেন। এখানে তার ব্যবসায়িক পার্টনার তাকে ৪০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে দিলে সে একটি অটো রিক্সা যোগে রওয়ানা দেয়।

কোটবাড়ি জাদুঘরের দিকে আসা মাত্র পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সুদীপ, নাজমুল প্রিন্স এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের সোহাগ ও হাছান একই দিক থেকে একটি সিএনজি চালিত গাড়ি নিয়ে দ্রুত জাদুঘর এলাকায় এসে অটো রিক্সাকে গতিরোধ করে ব্যবসায়ী পলাশকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নেয়।

এ সময় সিএনজিতে জায়গা হবে না বলে হাছানকে রেখে যায়। পরে তার কাছ থেকে নগদ ৪১ হাজার ৫০০ টাকা এবং এক্স-২ নকিয়া মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে বিশ্বরোডের ইন্ট্রাকো সিএনজি পাম্প এলাকায় তাকে ফেলে চলে যায়।

কোটবাড়ি ফাড়ির ইনচার্জ ওসমান গনি ও কুবি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মাছুম ছিনতাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে কুবি ছাত্রলীগ শাখার আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মাছুম কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসমান গনিকে জানান।

কোট বাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসমান গনি এ প্রতিবেদককে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মাসুম নামের এক ছাত্র ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আমাকে জানানোর পর আমি সাথে সাথে ফোর্স পাঠিয়ে দেই। ফোর্স ক্যাম্পাসে যেতে যেতে অভিযুক্ত ছাত্ররা হলের ভিতর চলে যায়।

যেহেতু আমাদের হলে তল্লাশী করার কোন অনুমতি নেই তাই আমাদের ফোর্স চলে আসতে বাধ্য হয়। মামলা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এস আই ওসমান গনি জানান, আমাকে বলা হয়েছে বিষয়টি তারা নিজেরা মিমাংসা করে দিবে। তাই আমি আর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করিনি। কেউ যদি লিখিত অভিয্গো না করে তাহলে তো আমি কোন ব্যবস্থা নিতে পারি না।

কুবি ছাত্রলীগ শাখার আহবায়ক মাহামুদুর রহমান মাছুম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করার জন্য আমার ধারাবাহিক সংগ্রাম অব্যাহত আছে। যেহেতু এই এলাকায় আমার বাড়ি, তাই এলাকার শান্তি শৃংখলা রক্ষা করার দায়িত্বও আমার। তাই ছিনতাইয়ের ঘটনা শুনার সাথে সাথে আমি পুলিশকে খবর দেই। ব্যবসায়ী পলাশকেও আমি বলেছি আপনি মামলা করেন। আমার যদি কোন কিছু করার থাকে তাহলে আমি সহযোগিতা করব। তারা সম্ভবত লিখিত অভিযোগ করেছে। তবে লিখিত অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছের ফাঁড়ির ইনচার্জ ওসমান গনী।

কুবির একটি সূত্র জানায়, ছিনতাইকারী ৫ জনের মধ্যে সুদ্বীপ, নাজমুল ও প্রিন্স ছাত্রলীগের শহর গ্র“পের সাথে জড়িত আর হাছান ও প্রিন্স স্থানীয় গ্র“পের সাথে জড়িত। বৃহস্পতিবার এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্র বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলাফেরা করতে আমরা নিরাপদ বোধ করি না আমাদেরই সহপাঠীদের কারণে। তারা প্রশাসনের দৃঢ় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।