অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসন এবং এলাকার সরদারদের সমোজতায় শেষ হল সংঘর্ষ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসন এবং এলাকার সরদারদের সমোজতায় শেষ হল সংঘর্ষ



মোঃ আরিফুর রহমান, কুমিল্লা, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

অবশেষে কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন এবং এলাকার সরদারদের সমোজতায় শেষ হল দুই দিন থেকে চলতে থাকা সংঘর্ষ। শনিবার বিকাল ৪.৩০ মিনিটের সময় কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ২য় তলায় অনুষ্ঠিত এক দীর্ঘ আলোচনা এবং সমোজতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, সালমানপুরের রশিদ সরদার, মজিদ সরদার, বাচ্ছু মিয়া সরদার, মোস্তফা কামাল সরদার, আক্তার সরদার, কুমিল্লা সিটি কর্ফোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব নাসির, সদর দক্ষিণ থানার ওসি, কুমিল্লা জেলার এস পি, সদর দক্ষিন উপজেলার ইউ.এন.ও. এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা মাহমুদুর রহমান মাছুম, শাহরিয়া মাহমুদ সহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের জাকির ও জসিম উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্থ জাকির সাংবাদিকদের বলেন- ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপুরন এবং ১০ বান টিন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উল্লেখ্য ৫ লক্ষ ৪০ হাজার মধ্যে ছাত্রদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভি সির পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা, সদর দক্ষিন উপজেলার  ইউ.এন.ও এর পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা  কুমিল্লা জেলার এস পির পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা, স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা, কুমিল্লা সিটি কর্ফোরেশনের মেয়রের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ টাকা, কুমিল্লা সিটি কর্ফোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব নাসির পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সদর দক্ষিন উপজেলার  ইউ.এন.ও এর পক্ষ থেকে ১০ বান টিন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়
এছাড়াও বৈঠকে আরো সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়ঃ কোটবাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যšত বিদ্যুত চালিত অটোরিকশার ভাড়া ১০ টাকার পরিবর্তে রাত ৮ টা পর্যন্ত ৮ টাকা এবং রাত ৮ টার পরে ১০ টাকা করা হয়।
এছাড়াও কুমিল্লা সিটি কর্ফোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জনাব নাসির এর নেতৃত্বে এলাকার ৫ জন এবং কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ৫ জন সদস্য নিয়ে মোট ১০ জনের একটি কমিটি করা হয়। আগামীতে এলাকা বাসীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এলাকা বাসীর কোন প্রকার সমস্যা হলে এ কমিটির মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে কুবির ৫ম ব্যাচের ম্যানেজমেন্টের ছাত্র তানভীর জুমার নামায পড়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদে যাওয়ার সময় রা¯তায় অটোচালক জাকির ও জসিম নামে স্থানীয় দুই যুবক এক মাইক্রো চালককে বেধে মারধর করতে দেখে প্রতিবাদ করে। এসময় জাকির ও জসিমসহ উপস্থিত যুবকরা তানভীরকে মারধর করে। পরে তানভীর হলে গিয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানালে বিক্ষুব্ধ ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টার সময় শিক্ষার্থীরা ওই দুই যুবকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র এবং তৈজসপত্র ভাঙচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আগুনে দুটি ঘরের লেপতোষক ও কাপড় পুড়ে যায়।
প্রতিবাদে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সব পথ অবরোধ করে দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী। সকাল ৯টা থেকে কুবির কোটবাড়ির চাঙ্গিনী ও বেলতলীসহ সব প্রবেশ পথ অবরোধ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

পূর্বের সংবাদ