মাদকের টাকায় আবুল কাসেম এখন কোটিপতি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মাদকের টাকায় আবুল কাসেম এখন কোটিপতি



মনোহরগঞ্জ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

মরণ নেশা মাদকের ব্যবসা করে শূন্য থেকে আজ কোটিপতি বনে গেছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের নরপাইয়া গ্রামের আবুল কাসেম। এক সময় যে লোকটি দু’মুঠো খাবারের জন্য মানুষের ধারে ধারে ধরণা দিতো আজ সে লোকটির বাড়িতে গেলে যে কারোই চমকে উঠার কথা। বাড়িতে তার বিশাল বিল্ডিং নির্মাণ কাজ চলছে, আর পাশেই বিশাল মাছের খামার,মাঠে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কাশেম ছিল ক্ষুদ্র ধান ব্যবসায়ী। কয়েক বছর আগেও আবুল কাসেম তার পরিবারের সদস্যদের মুখে ঠিক মতো দু’বেলা খাবার জুটাতেও কষ্ট হত। সূত্রে জানা যায়,আবুল কাশেম উপজেলার মাদক সম্রাট নামে পরিচিত আব্দুর রহিমের হাত ধরে এব্যবসায় জড়িত হয়।এক সময় সে রহিমের সহযোগি হয়ে মাদকের স্বর্গে পরিণত করে পুরো এলাকাকে। ধানের ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে মাদক ব্যবসায় মন দেয়,এরপর কাসেম তার তিন ছেলেকে কয়েক মাসের মধ্যে বিদেশে পাঠায়। ছেলেদের পাঠানো টাকায় মাদকে মুলধন বাড়ায় সে মাদক ব্যবসায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। আর মাদকের মরণ ছোঁবলে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যায় এলাকার যুব সমাজকে। সমাজে আবুল কাশেম ভালো মানুষের চরিত্র নিয়ে গোপনে মাদক ব্যবসা চালাতে থাকে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আস্তে আস্তে কাশেম গ্রামের মাঠে মানুষের জায়গা জমিন কিনতে থাকে তার এমন উত্থান কেউ সন্দেহের চোখে দেখেনি কারণ তার তিন ছেলে বিদেশে। কিন্তু গত ১৪ জানুয়ারী সোমবার রাতে উপজেলার নরপাইয়া গ্রাম থেকে আবুল কাশেম ও তার ছেলে সাহাদাত হোসেনকে ভারতীয় মদসহ আটক করে থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ থানার এএসআই একরামুরজ্জামান ও আবু হানিফ তাদের সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে কাসেমের গ্রাম নরপাইয়া থেকে অভিযান চালিয়ে আবুল কাশেম (৬০) ও তার ছেলে সাহাদাত হোসেন (২২) কে আটক করে।
তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় উপজেলার মাদক স¤্রাট আবদুর রহিম। স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, নরপাইয়া গ্রামে র্দীঘদিন ধরে আব্দুর রহিম ও তার স্ত্রী পারুল বেগম মাদক ব্যবসাসহ অনৈতিক কাজ করে আসছে তাদের সহযোগী হিসেবে আবুল কাশেম দীর্ঘদিন থেকে মাদকের ব্যবসা করছে।এব্যাপারে গ্রামের অনেকে বলেন,আবুল কাশেম এক সময় ধানের ব্যবসা করত এরপর মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রহিমের সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই তারা উভয়ে মিলে এ ব্যবসা চালিয়ে যায়। কাসেম ও রহিমের সর্ম্পক ছিল মামা ভাগ্নের। তার পর থেকেই মামা-ভাগ্নে মিলে পুরো এলাকাটিকে মাদকের আস্তানায় পরিণত করে। সরেজমিনে কাশেমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার নতুন বাড়িতে বিশাল বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে। এবিষয়ে গ্রামের অনেকে বলেন শুধু বিল্ডিং নয় কাশেম মাদকের ব্যবসা দিয়ে আজ কয়েক কোটি টাকার সম্পদের মালিক।

এব্যাপারে আবুল কাশেম সম্প্রতি মাদকের মামলায় জেল হাজতে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি,তবে তার স্ত্রীর সাথে কথা বললে তিনি এটা তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেণ।

মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ পরির্দক(ওসি)মো.জহিরুল আনোয়ার এবিষয়ে বলেন, সম্প্রতি আবুল কাসেম ও তার ছেলেকে ভারতীয় মদসহ আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে, এছাড়া তাদের সহযোগি আবদুর রহিমকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক তাকে ছাঁড় দেয়া হবেনা।


জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ