দিনাজপুরের পাথর খনির বিস্ফোরক গুদামে চুরি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

দিনাজপুরের পাথর খনির বিস্ফোরক গুদামে চুরি



দিনাজপুর, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনির বিস্ফোরক গুদামে চুরির ঘটনায় এলকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ খনির নয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পার্বতীপুর থানায়  এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ঘটনায় খনির দুই কর্মকর্তা সহকারী ব্যবস্থাপক করীর তালুকদার এবং উৎপাদন উপব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেনকে সামায়িকভাবে বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে পাথর খনির চুরির ঘটনাস্থল বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেছেন রংপুর অঞ্চলের পুলিশের ডিআইজি ইকবাল বাহার। দিনাজপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ শামীম আল রাজী, পুলিশ সুপার ময়নুল ইসলামসহ গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শ করেছেন।

দেশের এই উত্তেজনাকর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক গুদামে চুরির ঘটনার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি শওকত আলী জানিয়েছেন, এ চুরির ঘটনায় থানায় এনে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা হলেন, ডিজিএম (উৎপাদন) মনোয়ার হোসেন, নিরাপত্তা প্রধান বেলাল হোসেন, এজিএম নাসির, লতিফ সেলাফী, বিসমিল্লাহ হিল-করীর, মোজাফফর হোসেন ও আনসার সদস্য  জামিল হোসেন, আজাদুল এবং আনসার আলী।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন জানান, মঙ্গলবার তারা দেখেন খনির বিস্ফোরক দ্রব্য রাখার গুদামের দুটি তালা ভাঙা। এই ঘটনার পর খনির মহাব্যবস্থাপক (ক্রয়) মীর মো. হান্নানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী বিস্ফোরক দ্রব্য গুদামের কিছু মাল চুরি গেছে।

তিনি জানান, এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে খনির নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী ব্যবস্থাপক করীর তালুকদার এবং উৎপাদন উপব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে খনি এলাকা থেকে বিস্ফোরক গুদামটি দেড় কিলোমিটার দূরে এবং সেখানে মাত্র চারজন আনসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ এই বিস্ফোরক গুদামটির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তারা।

খনির উপমহাব্যস্থাপক (প্রশাসন) মোস্তফা ফেরদৌসী জানান, বি্স্ফোরক গুদামটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বারবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তিনি সেখানে একটি সেনাক্যাম্প বসানোর দাবি জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খনির এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, বিস্ফোরক সংগ্রহ করতে পারলে চুরি যাওয়া ডেটোনেটর দিয়ে বড় ধরনের ধ্বংস্বাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।


জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ