কুমিল্লার মুরাদনগরে লাশবাহী গাড়িসহ ১০গাড়িতে ডাকাতি : সড়ক অবরোধ

কুমিল্লার ‘মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ’ সড়কের বোরারচড় এলাকায় আবারো বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ডাকাতি হয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাতদল লাশবাহী গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি করে সর্বস্ব লুটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাত ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘন্টা ধরে ডাকাতদল ডাকাতি করাকালে ডাকাতির বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হলেও পুলিশের কোন সহযোগীতা না পাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভূক্তদভোগীরা। ক্ষুব্ধ ভূক্তভোগী চালক ও যাত্রীরা ঘটনার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সংবাদ পেয়ে টহলে দায়িত্বে থাকা মুরাদনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রত্যেক্ষদর্শী, ডাকাতি হওয়া গাড়ির চালক মোঃ আলমগীর হোসেন ও যাত্রী রবিউল হক  বলেন, কেয়া হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স (ঢাকা-মেট্রো থ-৪২৯) ঢাকার সোহরোওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে উপজেলার দারোরা গ্রামের ব্যাবসায়ী খোকন চন্দ্র দেবনাথের লাশ নিয়ে মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কের বোরারারচড় নামক এলাকায় (বৃহস্পতিবার দিবাগত) রাত সাড়ে ১২ টায় পৌঁছালে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল মূখে কালো কাপড় বেঁধে সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে  একে একে যান ও মালবাহি পরিবহন ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ ১০গাড়ি গতিরোধ করে। ডাকাতদল লাশের সঙ্গে থাকা আত্মীয়স্বজনের স্বর্নালঙ্কার, মোবাইল সেট ও চিকিৎসার জন্য নেয়া ১লাখ ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় বিদেশ থেকে আসা আরো ৩টি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস, ৫টি সিএনজি অটোরিক্সা, ১টি মালবাহী ট্রাক ও ১টি নছিমন-করিমনে ডাকাতি করে এবং যাত্রীদের জিম্মি করে প্রায় ৫লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। ডাকাতেরা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে এবং লাশ ও বিদেশ থেকে আসা যাত্রীবাহী গাড়িতে থাকা মহিলাসহ দশ যাত্রীকে মার-ধর ও ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত করে। আতদের কুমিল্লা সদর হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাইক্রো বাসের এক চালক অভিযোগ করে বলেন, পাশেই মুরাদনগর থানা পুলিশের টহল ছিল। পুলিশকে ডাকাতি হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করলেও পুলিশ তাৎক্ষনিক কোন কার্যকর পদক্ষে নেয়নি।

উল্লেখ্য গত ১৬ জানুয়ারী রাতে ওই একই সড়কের মুরাদনগরের ছালিয়া কান্দি-পাঁচ পুকুরিয়া গ্রামের মধ্য ব্রিজের ইটভাটা এলাকায় সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে যানবাহন গতিরোধ করে ডাকাতেরা প্রায়  ঘন্টাব্যপী ৪টি যাত্রিবাহী বাস ও ১০টি সিএনজি অটোরিক্সা, ২টি ট্রাক ও ৩টি নছিমন-করিমনে ডাকাতি করে এবং  যাত্রীদের জিম্মি করে প্রায় ৮লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নেয়। এ ঘটনায়ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসীসহ যাত্রী ও চালকেরা ওই রাস্তায় বিক্ষোভ  সমাবেশ করেছিলেন।

ঘটনার সময় টহল পুলিশের দায়িত্বে থাকা মুরাদনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম কুমিল্লার বার্তা ডট কমকে বলেন, লোক মূখে ডাকাতির সংবাদ শুনে ঘনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে ডাকাতির ঘটনায় ভূক্তভোগী কেউ এখনো থানায় কোন লিখিত অভিযোগ করেনি।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।