শ্রীলঙ্কার উদ্ধার হওয়া ১২৭ জনের মধ্যে ৩৪ জনই কক্সবাজারের

শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূল থেকে সাগরে ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হতভাগ্য ১২৭ জনের মধ্যে ৩৪ জনের বাড়ি কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বলে জানা গেছে। এছাড়া মৃত অবস্থায় পাওয়া যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পরিবার। হতভাগ্য লাশটি মহেশখালীর মোহাম্মদ রাশেলের। শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনী কর্মকর্তার মোবাইল থেকে রাশেলের ফুফাত ভাই বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসাধীন রহমত উল্লাহ ফোন করে মৃতের পরিচয়টি নিশ্চিত করেছেন। রহমত উল্লাহ জানান, এই ট্রলারে মহেশখালীর পাঁচজন, পিএমখালীর ১২ জন এবং টেকনাফের বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৮ জনসহ ৩৫ জন চিকিৎসাধীন।
উদ্ধারকৃত জেলেদের মধ্যে ১৫ জনকে চিকিৎসা দেয়ার পর ৫ ফেব্র“য়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানী কলম্বোয় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এদিকে টেকনাফের সাদ্দাম নামের দালালের মাধ্যমে মহেশখালীর নিহত মোহাম্মদ রাশেল পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ঘোনাপাড়া এলাকার মোহাম্মদ ইউনুসের পুত্র। মহেশখালীর অপর চার বিপথগামী হলেন একই এলাকার মোহাম্মদ ইসহাকের পুত্র রাহমত উল্লাহ (২৬), মৃত মোকতুল হোসেনের পুত্র ওসমান মাঝি (৫০), পুটিবিলার দুই সহোদর এরশাদ উল্লাহ ও আজিজুল হক, নিহত রাশেল রাহমত উল্লাহর ফুফাত ভাই।
এদিকে নিহতের পরিবার সূত্রে আরোও জানা যায়, শ্রীলঙ্কান নৌবাহিনীর হেফাজতে চিকিৎসাধীন ১২ জন হলেন পিএমখালীর জুমছড়ির ওমর আক্কাসের পুত্র ওবাইদুল করিম, শামসুল আলমের পুত্র নূরুল ইসলাম, আবুল বশরের দু’পুত্র আবু ছিদ্দিক, আরিফ উল্লাহ, মোসলেমের পুত্র নূরুল আবছার, ইমাম হোসনের পুত্র মো. ইসহাক, খুইল্ল্যা মিয়ার পুত্র আমান উল্লাহ, আমির হামজার পুত্র নূরুল ইসলাম। এছাড়াও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে হ্নীলা, নোয়াখালীপাড়া, বাহারছড়া, শাহপরীরদ্বীপ, ঝিমনখালী ও লেদার ১৭ জন মালয়েশিয়াগামী ওই নৌকা থেকে শ্রীলঙ্কায় উদ্ধার হয় বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
৩ ফেব্র“য়ারি রাত সাড়ে ১১টায় নিহত মোহাম্মদ রাসেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের শোকে পিতা-মাতা ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তার পিতা মোহাম্মদ ইউনুস টেকনাফের জনৈক দালাল সাদ্দাম হোসেনসহ অন্য দালালদের বিচার দাবি করেন। এদিকে জীবিত উদ্ধার হওয়া রাহমত উল্লাহর ভাই ছালামত উল্লাহ জানান, শ্রীলঙ্কায় এক নৌবাহিনী কর্মকর্তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তিনি জেনেছেন। মহেশখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন নিহত ও জীবিত উদ্ধার হওয়া রাহমত উল্লাহর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।