প্রাণে রক্ষা ১২০০ পর্যটক, বঙ্গোপসাগরে দু’জাহাজের ভয়াবহ সংঘর্ষ: নাবিকসহ আটক৭

বঙ্গোপসাগরে চলমান অবস্থায় পর্যটকবাহী এলসিটি কুতুবদিয়া ও এমভি ফারহান ক্রুজ জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘঠেছে। ৯ ফেব্রুয়ারী শনিবার বিকালে সেন্টমাটিন থেকে টেকনাফে ফেরার পথে ৪০ মিনিটের মাথায় বঙ্গোপসাগরের নাই্যংদিয়া এলাকায় পর্যটকবাহী ফারহানক্রুজ জাহাজটি এলসিটি কুতুবদিয়া জাহাজটিকে অতিক্রম করতে গিয়ে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে অল্পের জন্য প্রাণে রা পেয়েছে উভয় জাহাজের দেশী-বিদেশী শিার্থী, নারী-পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১২০০  পর্যটক। সংঘর্ষের ঘটনায় ৯ জন আহত হয়েছে। তবে আহতদের কারো অবস্থা আশংকাজনক নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় উভয় জাহাজের নাবিকসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
জানা যায়, ৯ ফেব্রুয়ারী বিকাল সাড়ে ৩ টায় সেন্টমার্টিনদ্বীপ থেকে বিকাল ৩ টায় টেকনাফের উদ্দেশ্যে এলসিটি কুতুবদিয়া ও এমভি ফারহানক্রুজ জাহাজ রওয়ানা দেয়। প্রায় ৪০ মিনিট চলার পর সেন্টমার্টিনের অদূরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনের মধ্যখানে বঙ্গোপসাগরে এমভি ফারহানক্রুজ অপর পর্যটকবাহী জাহাজ এলসিটি কুতুবদিয়াকে ওভারটেক করে যাওয়ার সময় পাশাপাশি সংঘর্ষ ঘটে। এতে জাহাজ দু’টি প্রায় হেলে গিয়ে সাগরে ডুবি ডুবি অবস্থায় থেকে অল্পের জন্য রা পায়। এ সময় জাহাজের যাত্রীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। দিকবেদিক মুঠোফোনে ঘটনার সংবাদ পৌছে দেয়। প্রত্যদর্শী পর্যটক মহসিন জানান, ঘটনার সময় পর্যটকরা আল্লাহ-আল্লাহ বলে চিৎকার করতে থাকে এবং ভয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। এদিকে সন্ধায় সাগরে সংঘর্ষের সংবাদে জাহাজ দু’টি টেকনাফ দমদমিয়া ঘাটে ফিরে আসলে টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে কোষ্টর্গাড টেকনাফ ষ্টেশন কমন্ডার লেঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, টেকনাফ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এস আই শাহ আলম অভিযান চালিয়ে দুই জাহাজের ৭ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হল এলসিটি কুতবিদিয়ার ক্যাপটিন বাবুল সিকদার, এফবি ফারহান ক্রজের ক্যাপ্টেন আব্দুল আওয়াল আনচারী, সহকারী ক্যাপটিন সৌরভ, ষ্টাফ মানিক, দূলাল, রনি, ইকবাল। এ সময় জাহাজে বহনকারী পর্যটক গননা করে এলসিটি কুতুবদিয়ায় ২৬০ জন ও এফবি ফারহানক্রসে ৪৫০ জন ধারন মতা থাকলেও এর বাহিরে এলসিটি কুতুবদিয়া ১১৩ জন ও এফবি ফারহানক্রসে ১৬২ জন অতিরিক্ত যাত্রী থাকার অভিযোগে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী জাহাজ দু’টিকে রবিবার থেকে চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এদিকে আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে একটি মহল জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচেছ বলে জানা গেছে। প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে ৫/৬ পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করে। মে-জুন-জুলাই মাসে কালবৈশাখী ও ঝড়ো হাওয়া সাগর উত্তাল হলে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়। বর্তমানে এ রুটে ছয়টি জাহাজ চলাচল করছে তা হল, কেয়ারী সিন্দাবাদ, কেয়ারীক্রজ, এলসিটি কুতুবদিয়া, এফ বি ফারহান ক্রজ, সী ট্রাক, এম ভি কাজল। এ জাহাজ গুলো ধারণ মতার বাহিরে যাত্রী নিয়ে গেলেও প্রশাসনের প থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বঙ্গোপসাগরে জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনার ফলে স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে বসে। খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুল ইসলাম মেহেদী, মডেল থানার পুলিশ কোস্টগার্ড দ্রুত এমভি ফারহানা ক্রুজের ঘাটে অবস্থান নেয়। সন্ধ্যা ৬ টায় জাহাজ দু’টি নিরাপদে দমদমিয়া জেটি ঘাটে ভিড়ার সাথে সাথে এমভি ফারহান ক্রুজ ও এলসিটি কুতুবদিয়া জাহাজের নাবিকসহ মোট ৭ জনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে ফারহান ক্রুজের ৬ জন্য ও কুতুবদিয়া ১ জন রয়েছে। সংঘর্ষে উভয় জাহাজের ৯ জন পর্যটক আহত হয়েছে। এমভি ফারহান ক্রুজে ৬১৩ জন ও এলসিটি কুতুবদিয়াতে ৫৫০ জন পর্যটক ছিল বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। এদিকে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুল ইসলাম মেহেদী পর্যটকবাহী জাহাজ এমভি ফারহান ক্রুজ ও এলসিটি কুতুবদিয়াকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে চলাচল বন্ধ ঘোষনা করেছেন এবং আটককৃতদের টেকনাফ থানায় সোপর্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলেও জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।