টেকনাফের উপকূলীয় ঝাউবাগান উজাড়

টেকনাফের উপকূলীয় ঝাউবাগান উজাড় হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ নয়নাভিরাম এই ঝাউবাগানের রক্ষা বা দায়-দায়িত্ব নিচ্ছেননা। কোন বেসরকারী সংস্থাও (এনজিও) এই ঝাউবাগান রক্ষা বা তদারকিতে এগিয়ে আসছেনা। এই সুযোগে চোরের দল বিশেষতঃ রোহিঙ্গারা বড় বড় ঝাউগাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। কক্সবাজার থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সাগর সৈকতে রয়েছে বিভিন্ন আয়তণের নয়নাভিরাম ঝাউবাগান। কোন স্থানে ছোট ছোট চারা, আবার কোন কোন স্থানে বড় বড় ঝাউ গাছের সারি দেখতে যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি পরিবেশ রাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই ঝাউবাগান বিশাল ভূমিকা রাখছে। তাছাড়া এই ঝাউবাগান দেশী-বিদেশী পর্যটক শিার্থীদের নিকট আকর্ষণীয় ‘পিকনিক স্পট’ হিসাবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। অবশ্য, কখন কে বা কারা টেকনাফের উপকূলে এই ঝাউবাগান সৃজন করেছিল তার কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লম্বরী, দণি লম্বরী, গুইজ্যাছড়ি, দরগাহরছড়া, মিঠাপানিরছড়া, হাবিরছড়া, রাজারছড়া, নোয়াখালীয়াপাড়াসহ উপকূলীয় এলাকার ঝাউবাগান থেকে চোরের দল রাত-দিন বড় বড় ঝাউ গাছ অবাধে কেটে নিয়ে যাচ্ছে। যেন দেখা বা বাধা দেয়ার মতো দায়িত্বশীল কেউ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং খুরেরমূখ ও কাটাবনিয়া এবং বাহারছড়ার বড়ডেইল এলাকার বিশাল এলাকায় ঝাউবাগান না থাকায় ভাঙ্গণে সাগরে বিলীন হয়ে গিয়েছে । যে হারে টেকনাফের উপকূলীয় এলাকার ঝাউগাছ কাটা যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে টেকনাফের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ অফিসার মীর আহমদ ও উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার শীলখালী রেঞ্জ অফিসার তারিক-আল- হাসান বলেন- উপকূলীয় এলাকার ঝাউবাগান দেখাশোনা করার দায়-দায়িত্ব আমাদের নয়, উপকূলীয় বন বিভাগের। আমরা শুধু সহযোগিতা করে থাকি। উপকূলীয় বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জ অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন- বাহারছড়ার জাহাজপুরা থেকে শামলাপুর পর্যন্ত প্রায় ২০০ একর উপকূলীয় ঝাউবাগান তাদের দায়িত্বে রয়েছে। তা দেখা-শোনা করার জন্য সেখানে ২ জন কর্মচারী (বোটম্যান) কর্মরত আছে। সেখানকার ঝাউগাছ গুলো আকারে ছোট। জাহাজপুরা থেকে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত উপকূলীয় ঝাউবাগানের দেখা-শোনা বা তদারক করার দায়-দায়িত্ব উপকূলীয় বন বিভাগের নয় বলে তিনি দাবী করেছেন। অথচ এই অংশের ঝাউ গাছগুলো আকারে তুলনামূলক বড়।  এভাবে নরম্যাল ফরেষ্ট আর কোষ্টাল ফরেষ্ট পরস্পর বিরোধী দায়-দায়িত্বহীন বক্তব্যে উজাড় হয়ে যাচ্ছে উপকূলীয় ঝাউবাগান। যে ভাবে টেকনাফের উপকূলীয় ঝাউগাছ কাটা যাচ্ছে এবং রোহিঙ্গারা জবরদখল করছে, অদূর ভবিষ্যতে নিচিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।