নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকনিকের বাস নদীতে ॥ শিশু-নারীসহ নিহত ১৮ ॥ আহত ২৫ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকনিকের বাস নদীতে ॥ শিশু-নারীসহ নিহত ১৮ ॥ আহত ২৫



শাহনেওয়াজ জিল্লু, কক্সবাজার, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

 

চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া মাতামুহুরী ব্রীজের রেলিং ভেঙ্গে পিকনিকের বাস নদীতে পড়ে দুমড়েমুছড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলে মর্মান্তিকভাবে ১৬জন নিহত ও হাসপাতালে নেয়ার পথে কিশোরী এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনসহ ১৮জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আহত হয় আরো ২৫ যাত্রী। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মূমুর্ষদের চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল ১১ফেব্রুয়ারি সোমবার ভোর পৌনে ৫টার দিকে ভয়াবহ এ দুঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিক কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওসি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সরেজমিন জানা গেছে, গাজীপুর থেকে ৯ফেব্রুয়ারি রোববার চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার শরীফ ওরশে যোগদানের উদ্দেশ্যে ৪২জন যাত্রী নিয়ে নিরাপদ সুপার সার্ভিস (টাঙ্গাইলজ ১১০০৮০) নামে একটি বাস ছেড়ে আসে। সারাদিন ওরশে অংশগ্রহণ করে ওইসব যাত্রী একই বাসে করে রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে কক্সবাজার বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। সোমবার ভোর পৌঁনে ৫টার দিকে চকরিয়া পৌর শহরের প্রবেশ পথ চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়কের মাতামুহুরী ব্রীজের ওপর পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহি বাসটি ব্রীজের রেলিং ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলেই ১৬জন প্রাণ হারায়। খবর পেয়ে ছুটে যান চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবদিন। তাঁর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, থানা পুলিশ, দমকল বাহিনীসহ স্থানীয় জনতা উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এসময় আহত শিউলি আক্তার (১৪) নামের এক কিশোরী হাসপাতালে নেয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যায়। ঘটনাস্থলে নিহতরা হলেন, রাজিব (২৭), জলিল (৬০), লাল মিয়া (৭৫), জয়নাব নেছা (৬০), মফিজা খাতুন (৪৫)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্যান্যজনদের পরিচয় জানা যায়নি। অপরদিকে আহতরা হলেন, আবু শামা (৩৫) পিতাআবু তালেব, মোঃ লাল মিয়া (৭০) পিতামৃত মেহের আলী, তুহিন (১৬) পিতামোস্তফা, হালিম (৫০) পিতাআইনুল হক, সবুজ (২৫) পিতাআবদুর রহিম, হাবিব (৫০) পিতাহাফিজ উদ্দিন, রমিজ উদ্দিন (৩০) পিতাসুরুজ মিয়া, আবদুর রব (৪০) পিতাহারুন আলী, নুরুল ইসলাম (৫০) পিতাজালাল উদ্দিন, হাসমত আলী (৪০) পিতাসুরুজ আলী, শিল্পি (৩৫) পিতা আবু শামা, বাহার উদ্দিন (৩২) পিতাগিয়াসউদ্দিন, আবদুল কুদ্দুছ (৫৫) পিতাআবদুল জব্বার, ছেনুয়ারা বেগম (৫০) পিতাআবদুর রহমান, আবদুর রহমান (৫০) পিতারিয়াজউদ্দিন, সাইদুজ্জামান (৪০) পিতা কালু শেখসহ পচিশ জন। হতাহতরা গাজীপুরের জয়দেবপুর ও নোয়াগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় ও ভাড়াটিয়া লোকজন বলে জানা যায়। অন্যদিকে খবর পেয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার মোঃ আজাদ মিয়া, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মুহাম্মদ খালেদ উজজামান, ওসি রনজিত বড়–য়া, চকরিয়া পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ২৫ লাশ গ্রামের বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত সার্বক্ষণিক তত্বাবধান করেন। এদিকে চকরিয়া থানার ওসি রনজিত বড়–য়া জানান, গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার হরিনল ও নোয়াগাঁও গ্রামের ৪২ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি মাইজভান্ডারী ওরস শরীফে গিয়েছিল। পরে সোমবার ভোরে তারা সেখান থেকে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে ১৮জন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতদের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের নোয়াগাঁও ও জয়দেবপুরে স্বজনদের মাঝে পড়ে কান্নার রোল পড়েছে বলে জানা যায়। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় সর্বত্রে শোকের ছায়া নেমে আসে।

 


পূর্বের সংবাদ