কক্সবাজারে হরতালে আটকা পড়েছে দেশী-বিদেশী হাজার হাজার পর্যটক

# উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অন্ত নেই স্বজনদের
# বেড়ে চলেছে ভুক্তভোগিদের দুর্ভোগ-ভোগান্তি
# পাওনাদারের দুর্বৃত্ত সুলভ আচরণে বেকায়দায় পর্যটক
পর্যটন শহর কক্সবাজারে আকস্মিক হরতাল। তাও আবার সকাল-সন্ধ্যা। একদিনে শেষ নয়, টানা ৪৮ঘন্টার এ হরতাল মিলিত হল আজ সোমবার দেশব্যাপি পূর্ণ দিবস হরতালের সাথে। তাই আটকা পড়েছে দেশী বিদেশী হাজার হাজার পর্যটক। তটস্থ এসব পর্যটক কথিত বিশ্ব ভালবাসা দিবস ও জুমাবার ও শনিবার বেশ ক’দিনের সরকারী ছুটিকে কেন্দ্র করে অবকাশ যাপনে আসে পর্যটন সমৃদ্ধ কক্সবাজারে। আটকা পড়া পর্যটকরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার শহর, উখিয়া ইনানী পাথুরে বীচ, অবারিত সুন্দরের সুউচ্চ পাহাড় বেষ্টিত অন্যতম দর্শণীয় স্থান হিমছড়ির ঝর্ণাধারা, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটের আবাসিক হোটেল ও কটেজে। সুত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট পর্যটকদের মধ্যে হবু বধু, নব দম্পতি, নারী শিশু কিশোর ও বয়োবৃদ্ধরাও রয়েছেন।
শুক্রবার আল্লামা সাঈদী মুক্তি পরিষদ ও ইসলাম নির্মূল প্রতিরোধ কমিটির সাথে পুলিশের সংঘর্ষের পর প্রশাসনের দেয়া ১৪৪ ধারা ও হরতালের কর্মসূচী তাদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। অপরদিকে, পর্যটন শহর কক্সবাজারে বেড়াতে এসে সময় মত ফিরতে না পারায় এসব পর্যটকদের আত্মীয় স্বজনরাও রয়েছে চরম উদ্বেগ উৎকন্ঠায়।
হরতালের ১ম দিন প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উল্লেখিত তথ্যসমূহ। সূত্র জানায়, শুক্রবার কক্সবাজার থেকে টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে গেছেন প্রায় ১০ হাজার পর্যটক। বর্তমানে তারা সেখানকার বিভিন্ন হোটেল ও কটেজে আটকা রয়েছেন। এটা অনেকের কাছে ভ্রমনের জন্য সঙ্গে আনা নগদ টাকা পয়সাও ফুরিয়ে গেছে। ফলে হোটেল ভাড়া, খাবারের বিল সহ আনুসাঙ্গিক নিজেদের প্রয়োজনীয় খরচ মিটাতে গিয়ে চরম বেকায়দায় পড়ে গেছেন তারা। সূত্র মতে, কেউ কেউ হাতের মোবাইল, ক্যামেরা , স্বর্ণালংকার বিক্রির চেষ্টা করেও ব্যার্থ হচ্ছেন। এদিকে, হোটেল ভাড়া ও খাবারের বিল দিতে না পারা কিছু কিছু পর্যটকদের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জিম্মি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শুধু সেন্টমার্টিন নয় একই অবস্থা বিরাজ করছে পর্যটন শহর কক্সবাজারের শতাধিক হোটেল মোটেল রেস্তোরা ও কটেজে। পৃথিবীর বেলা ভূমি কক্সবাজার সৈকত আশ-পাশে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, এখানে কমপে ২০ হাজারেরও বেশী পর্যটক আটকা পড়েছে। শহরে পুলিশের সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতির পর স্থানীয় প্রশাসন ব্যস্ত থাকার সুবাধে হোটেল মোটেল জোন এলাকার ব্যবসায়ীরাও পর্যটকদের জন্য হিংসাত্মক ও বাণিজ্যিক মনোভাবি হয়ে পড়েছেন। একারণে আটকা পড়া পর্যটকদের অভিযোগ, তাদের অনেকের কাছে নগদ টাকা পয়সা শেষ হয়ে যাওয়ার সুযোগে পাওনাদাররা দুর্বৃত্ত সুলভ আচরণ করছেন। রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, এরকম বিপদ হবে জানলে তারা কক্সবাজার আসতেন না। হরতালের কারণে উৎকন্ঠিত এসব পর্যটকরা না পারছেন বাড়ি ফিরতে আবার না পারছেন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেড়াতে আসা এসব পর্যটকদের হাতে নগদ টাকা পয়সা প্রায় ফুরিয়ে গেছে।
ফরিদপুর থেকে বেড়াতে আসা এক নবদম্পতি জানান, ভালবাসা দিবস উদযাপনের জন্যে তারা আসছিলেন কক্সবাজার। ইচ্চে ছিল শুক্রবারের রাতের গাড়িতেই ফিরে যাবেন, কিন্তু জামায়াত পুলিশ সংঘর্ষের কারণে পুরো কক্সবাজার শহর জনমানবহীন হয়ে পড়ায়-ভয়ে তারা কক্ষ থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সাহস পাননি।
সীমান্ত উপজেলায় টেকনাফে কিছু পর্যটক আটকা পড়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। খোঁজ খবর নিয়ে তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনও অনুরুপ বক্তব্য দিয়ে বলেন, আটকা পর্যটকদের যারা বিমানে যাবেন, তাদেরকে বিমান বন্দর এবং অন্যান্যদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছিয়ে দিতে তিনি প্রশাসনের প থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রয়োজনে আটকা পড়া পর্যটকদের জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেওয়ার এমন কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।