কুমিল্লার লাকসামে স্কুল ছাত্র হত্যা মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

মায়ের পরকীয়ার জের ধরে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে সোমবার কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল আমলি আদালতে মামলা হয়েছে। নিহতের চাচা বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তসহ আসামীদের গ্রেপ্তারে লাকসাম থানাকে নির্দেশ দেন। নিহতের চাচা এডভোকেট জাকির হোসেন জানান, ২০১১ সালে তার স্বামী স্কুল শিক্ষক শাহ আলম সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পর থেকে দু’সন্তান নিয়ে নার্গিস সুলতানা মিশ্রি এলাকায় বসবাস করেন। এ সময় সে পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়লে মা-ছেলের মাঝে প্রায় কথা কাটাকাটি হতো। শাহরিয়ার এ বিষয়গুলো চাচাদের জানাতো। এ বিষয়ে গত কিছুদিন আগে পারিবারিক দেন-দরবার হলে সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে শাহরিয়ারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচারনা চালানো হয়। নিহত শাহরিয়ার লাকসাম পাইলট হাইস্কুলে ৭ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। এ ঘটনায় লাকসাম থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। স্কুলছাত্র হত্যার ঘটনায় তার চাচা বাদী হয়ে তার মা নার্গিস সুলতানা, নজরুল ইসলাম ও খসরু ওরফে ভুট্টুসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা (সিআর-৮১/১৩) দায়ের করেন।
এ বিষয়ে নিহতের মা নার্গিস সুলতানা জানান, প্রাইভেট টিউশনি থেকে বাড়ি ফিরে তার ছেলের ঘরের দরজা জানালা বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় তিনি উঁকি দিয়ে দেখেন গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস দেয়া অবস্থায় সে ঝুলে আছে। তার চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন ও পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় লাকসাম পৌরসভার মিশ্রি নজরুলের বাড়ি থেকে শাহরিয়ার হোসেন সুহৃদ (১৪) নামে ওই স্কুল ছাত্রের ফাঁস দেয়া লাশ উদ্ধার করে লাকসাম থানা পুলিশ। তার গলায় ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গতকাল সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে নামাজে জানাযার পর উপজেলার চন্দনায় পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
একই ঘটনায় ওইদিন নিহতের মা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের হত্যা মামলা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, একই ঘটনায় দু’টি মামলা হতে পারে না। নিহতের মা বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।