কক্সবাজারে সিএনজি চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঈদগাঁও ইউনিয়নের লাল শরিয়াপাড়া বেড়ী বাঁধ এলাকায় গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকা এক সিএনজি চালকের লাশ পাওয়া গেছে। হতভাগা সিএনজি চালক রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের উত্তর চাকমারকুল শ্রী পাড়া গ্রামের প্রবাসী ফরিদুল আলমের পুত্র জসিম উদ্দিন (২৭)।
প্রত্যদর্শীরা জানান, বুধবার সড়ক দিয়ে হাটার সময় পথচারীদের চোখে পড়ে একটি লাশ। তারা লাশটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করে স্থানীয় ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে এসআই হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক লাশের সুরহাতল তৈরী করে লাশটি উদ্ধর করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
এদিকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ পাওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে শত শত জনতা ঘটনাস্থল ও পরে তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় লাশটিকে দেখতে ভিড় করতে থাকে। একটি লাশ পাওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে নিহতের মা ও আত্মীয় স্বজনরা পূর্বের দিন রাত থেকে সিএনজিসহ জসিমের খোঁজ না মেলায় তারা বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে তদন্ত কেন্দ্রে পৌঁছে লাশটি দেখে জসিম বলে সনাক্ত করেন। এ সময় মা ও অপরাপর আত্মীয় স্বজনদের বুক ফাটা আহাজারী করতে দেখা যায়। মা নুর জাহান আহাজারী করতে করতে স্থানীয় সাংবাদিক ও লোকদের সামনে বলেন, পূর্বের দিন রাতে ক্রিকেটের ফাইনাল খেলা দেখতে জসিম গাড়ি সহ আগে ভাগেই বাড়িতে পৌঁছে টিভি সেটের সামনে খেলা দেখতে থাকে। এমতাবস্থায় তার মোবাইলে কল আসলে সে গাড়ি নিয়ে ফের বের হতে গেলে মা কে কল করছে জানতে চাইলে জসিম প্রতিবেশী আত্মীয় আবুল হোছেনের পুত্র আমিন একটি মোটা অংকের টাকায় রিজার্ভ ভাড়ায় যাওয়ার জন্য ডেকেছে জানালে মা জসিমকে উক্ত আমিনের ডাকে রাতে পুনরায় ভাড়ায় না যাওয়ার জন্য বললেও জসিম টাকার লোভে সিএনজি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। রাতে বাড়িতে না ফেরায় চিন্তাগ্রস্ত হয়ে সকালে আমিনের কাছে তার ব্যাপারে জানতে চাইলে সে ভাড়ার জন্য ডেকেছে কিংবা সে কোথায় গেছে সে ব্যাপারে জানেনা বলে জবাব দেয়। পরে বিভিন্ন ফোন থেকে জসিমের হাতে থাকা মোবাইল নাম্বারে কল দেয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তার দাবী চিহ্নিত অপরাধী আমিন পূর্বপরিকল্পি ভাবেই জসিমকে হত্যা করে সিএনজিটি ছিনতাই করেছে। জসিম সদ্য বিবাহিত এবং ছিনতাই হওয়া নতুন সিএনজির মালিক সে নিজে। রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে উদ্ধারকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, লাশটির পরিচয় পাওয়া গেছে এবং নিহতের মায়ের দাবী অনুযায়ী চিহ্নিত সংঘবদ্ধ চক্র তাকে ভাড়ার কথা বলে ঘর থেকে বের করে জবাই পূর্বক লাশ ফেলে দিয়ে সিএনজিটি ছিনতাই করেছে। লাশের উদ্ধারস্থল এবং পাশের স্থানে রক্তের দাগ দেখা গেছে। তার ধারণা ঘাতকরা চালককে ঠান্ডা মাথায় জবাই পূর্বক খুন করে সিএনজি যোগে এনে উক্ত স্থানে ফেলে রেখে ঘাতকরা গা ঢাকা দিতে পারে। নিহত চালকের গলার সামনে ও ডান পাশে জবাইয়ের ত রয়েছে। রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত নিহতের পরিবার বাদী হয়ে হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে সহকর্মীর নৃশংস খুনের সংবাদ পেয়ে অপরাপর চালকরা ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রে ছুটে আসে। এলাকাবাসী ও নিহতের আত্মীয় স্বজনদের দাবী উক্ত আমিনকে দ্রুত গ্রেফতার পূর্বক জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘাতক চক্রের প্রকৃত রহস্য এবং ছিনতাই হওয়া সিএনজির উৎস উদঘাটিত হবে। এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তপে কামনা করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।