শৈলকুপায় সারকারী দলের ছত্রছায়ায় ঠিকাদারের স্কুল মাঠ দখল মহান ২১ পালিত হয়নি

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলার বারইপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ঠিকাদারী মালামাল স্তুপ করায় স্কুলটির শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে পারেনি। স্কুল মাঠে ধুলাবালি, ইট খোয়া স্তুপ করে রাখায় বিদ্যালয়ের ৩০০ শিার্থী পাশের বাড়িতে কাস করছে বলে জানা গেছে।অভিভাবকরা জানান শৈলকুপার একটি রাস্তা নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে বারইপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রীর স্তুপ করেছে। এছাড়া রাস্তা নির্মান কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বারইপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ফলে উপায়ন্তর না পেয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের সন্নিকটে ইন্তাজ আলী বাড়িতে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাব্দার হোসেন মোল্লা ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি শামীম মোল্লাকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। বরং জনস্বার্থে রাস্তা নির্মানের কথা বলে ঠিকাদারদের সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের সহকারী শিকিা জাহানারা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন ও খেলার মাঠ দখল করে রাখায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা লাঠে উঠেছে। এমনকি ২১ ফেব্রয়ারী পর্যন্ত পালন করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক রজব আলী জানান, নির্মাণ কাজে নিয়োজিত বহু শ্রমিক, মিক্সার মেশিনের শব্দ, মালামাল পরিবহনে গাড়িঘোড়ার যানজট ও শব্দদূষণ ছাড়াও নিয়মিত আগুনের লেলিহান শিখায় বিদ্যালয়ের সামনের গাছপালা পুড়ে তিগ্রস্থ হচ্ছে।  দিনভর আগুনের ধোঁয়া-ধুলাবালি ও শব্দের কারনে বাচ্চাদের নানা রোগের সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে বলে প্রধাণ শিক্ষক সাংবাদিকদের কাছে অবিযোগ করেন। এ ব্যাপারে শৈলকুপা উপজেলা প্রাথমিক শিা কর্মকর্তা দ্বীন মুহাম্মাদ জানান, প্রায় ১ মাস স্কুলটিতে এসেম্বিলি হয়না। বিদ্যালয়ের ভবন ও মাঠ ঠিকাদার দখল করে নেওয়ায় পার্শ্ববর্তী বাড়িতে পাঠদান এবং ২১ ফেব্রয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সাব্দার হোসেন মোল্লা জানান, সড়ক ও জনপদ বিভাগের ঠিকাদার রাস্তা মেরামতের জন্য বারইপাড়া স্কুলমাঠটি দাবী করলে তিনি তাকে মাঠটি ব্যবহারের অনুমতি দেন।  কারণ হিসেবে তিনি জানান, জনস্বার্থে শৈলকুপা-গাড়াগঞ্জ রাস্তা মেরামত আশু প্রয়োজন। তাই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সামান্য ক্ষতি হলেও তা করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, স্কুলের মাঠ দখলের সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। ঠিকাদারকে তারা স্কুলের মাঠে মালামাল জমা করতে বলেন নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।