ইসলামী বিদ্বেষী নাস্তিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে কক্সবাজারে বিক্ষোভ মিছিল

প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে আল্লাহ্ এবং রাসুল (সঃ) কে নিয়ে কটুক্তিকর মন্তব্য ছোড়ে দেয়ার প্রতিবাদে অবমাননা ও কটাক্ষকারী ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে কক্সবাজারের সদর উপজেলাসহ জেলাব্যাপি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তৌহিদী জনতা। মিছিলকালে সদরের ঈদগাঁও ও চকরিয়ার দু’একটি স্থানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। সদরের ঈদগাঁওতে আরকান সড়ক, পোকখালী ও ইসলামাবাদে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছে। বিক্ষোভকালে পুলিশসহ আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ৪জন গুরুতরসহ অন্তত ৬ব্যক্তি আহত হয়েছে। কক্সবাজার সদরের খরুলিয়ায় স্মরণকালের ও জানারঘোনায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, কৃষক, শিক্ষক, দিনমজুরসহ শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল করে তৌহিদী জনতা। এদিকে চকরিয়ায় শহীদ ইমাম হোসাইন (রাঃ) স্মৃতি সংসদের ব্যানারে এক বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। গতকাল শুক্রবার সারাদেশের ন্যায় জুমার নামাজের পর প্রতিবাদমুখর বিক্ষুব্ধ তৌহিদী জনতার বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা থাকায় সকাল থেকে ও নামাজপূর্ব ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে চকরিয়া পৌর শহরের বৃহত্তর চিরিঙ্গা সোসাইটি শাহী জামে মসজিদ, বায়তুশ শরফ মসজিদ কমপ্লেক্স ও পুরাতন এস.আলম কাউন্টারস্থ জনতা মার্কেট জামে মসজিদসহ উল্লেখযোগ্য মসজিদসমূহের আশপাশ এলাকায় কঠোর অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। এদিকে সকল মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার থাকলেও পুলিশী বাঁধার মুখে তা পারেনি। পরে দুপুর ২টার দিকে পৌর শহরের মৌলভীরকুম বাজার ষ্টেশন এলাকা থেকে চকরিয়া শহীদ ইমাম হোসাইন (রাঃ) ব্যানারে একটি মিছিল নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা শহরের দিকে এগুনোর চেষ্টা করলে পুলিশের ধাওয়ায় মৃদু ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে পুলিশ ও মিছিলকারীদের মাঝে। পরে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। একইসময় পাশ্ববর্তী ভাঙ্গারমুখ ষ্টেশন এলাকায় তৌহিদী জনতা মিছিলের চেষ্টা করলে সেখানেও মৃদু ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভ কার্যক্রম প্রতিহত করতে আ’লীগ নেতা জাফর আলমের নেতৃত্বে মাঠে নেমে পড়ে অংগ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। খবর পেয়ে বিকাল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবদিন। তিনি পরিস্থিতি নিভৃত করতে সর্বস্তরের মানুষকে সহানুভূতিশীল আচরণ ও শান্ত থাকার আহবান জানান। অপরদিকে উপজেলার কোনাখালী, দরবেশকাটা, বেন্ডিবাজার, হাজিয়ান, হারবাং, লক্ষ্যারচরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া, সীমান্ত উপজেলা উখিয়ার রাজা পালং, হিজলিয়াপালং, আমিনপাড়া, হরিণমারা, নলকূপঘোনায় আল্লাহ্ ও হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে কটাক্ষকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে তৌহিদী জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিশাল বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছে। এদিকে খেলাফত মজলিসের কক্সবাজার জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল আলম আল মামুন ও সেক্রেটারি অধ্যাপক সরওয়ার কামাল মনজু এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের গুরুতর আহত করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দুস্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।