ওয়াসা ৫ প্রকল্প শেষ করতে পারছে না

ভূ-উপরিস্থ (সারফেস ওয়াটার) ব্যবহার বৃদ্ধির করার জন্য এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক, গণচীন ও ফরাসি সরকারের অর্থায়নে ঢাকা ওয়াসা পাচঁটি প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও তা শেষ করতে পারছে না । অন্যদিকে পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০ বছরের মধ্যে সারফেস ওয়াটারের পরিমাণ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে  আগামী ২০ বছর পরে পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর রূপ নেবে।

জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা শহরে এক কোটি ৩০ লাখ নাগরিকের পানির চাহিদা পুরণে ঢাকা ওয়াসা ডিসেম্বর ২০০৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি। অন্যদিকে এসব শোধনাগারে কাজ শেষ না হওয়ায় রাজধানীবাসী পানি তীব্র সংকটে পড়েছে।
সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ গত বছর  ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়। এটি চালু হওয়ার পর  দৈনিক আরও ২২.৫০ কোটি লিটার পানিসহ  মোট ৪৫ কোটি লিটার পানি নগরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পদ্মা নদীর পানি শোধন করে রাজধানীতে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পাগলা জশলদিয়া প্রকল্প এবং মেঘনা নদীর পানি শোধন করে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে খিলক্ষেত পানি শোধনাগার প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে অনেক আগেই।
এছাড়াও সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প ফেজ-৩ গ্রহণ করা হয়েছে যার মাধ্যমে দৈনিক আরও ৪৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এছাড়া তেতুল ঝড়া ভাগুপ্তা (সাভার উপজেলায়) এ ছাড়া ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পদ্মা নদীর পানি শোধন করে রাজধানীতে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে পানি শোধনাগার প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে অনেক আগেই।
সূত্র জানায়, ওয়াসা প্রকল্প গুলো হাতেই নিয়েই তাদের কাজ শেষ করে। এগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।
ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ড. আজহারুল হক বলেন, “ঢাকা মহানগরী বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। ভূগর্ভ  থেকে আর পানি উঠানো ঠিক হবে না। রাজধানীর আশেপাশের নদী থেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।”
পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই পানি সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা না নিলে আগামীতে পরিস্থিতি সামাল দেয়া মুশকিল হবে। রাজধানীজুড়ে পানি নিয়ে হাহাকারের পাশাপাশি যখন-তখন ভূমিধসের মতো বিপর্যয় দেখা দিবে। তাই ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নের দেরি করলেই বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে।”
বিশেষজ্ঞ আরো বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রতি বছর এভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলে কয়েক বছরের মধ্যে তা হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
তারা আরো  বলেন, “বৃষ্টি এবং ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহার করা না হলে রাজধানীতে ভূপরিবেশগত বিপর্যয়  দেখা দিবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।