কুমিল্লায় আলোচিত গৃহকর্মী জালাল হত্যা মামলায় কোন অগ্রগতি নেই

কুমিল্লায় আলোচিত গৃহকর্মী জালাল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার না করে উল্টো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠেছে প্রভাবশালীরা। অপমৃত্যু মামলা-সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টে ব্যাপক গরমিল করে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মামলা করলেও আসামি পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের সঙ্গে পুলিশ গোপনে আঁতাতের কারণে গত দেড় মাসেও মামলার আসামিদের কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এ মামলাটি সিআইডিতে স্থানাšতর করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নিহত গৃহকর্মী জালাল (১২) সিলেটের মাজার গেট এলাকার মৃত কবির মিয়ার ছেলে।
বিভিন সুত্রে জানা যায়, কুমিল্লা মহানগরীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন আহমেদের ছেলে নিজাম উদ্দিন আহমেদ গত ১০ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিতভাবে জানান, ‘তাদের বাসার কাজের ছেলে (গৃহকর্মী) জালাল পাতলা পায়খানা ও বমি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সাময়িক সেবা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে ওইদিন তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এতে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ আইয়ুব ওই গৃহকর্মীর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করার জন্য থানার এসআই মো. সাইদুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। এসআই সাইদুর গৃহকর্মী জালালের শরীরের ১০-১৫টি স্থানে মারাত্মক জখমের চিহ্ন দেখে ওসিকে (তদন্ত) জানালে তিনিও হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতন করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এ ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন প্র¯তুতকারী এসআই সাইদুর রহমান বাদী হয়ে পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি ওই ব্যবসায়ীর ছেলে নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও তার মেয়ে শিরিন আক্তার চৈতীসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে গৃহকর্মী জালালের লাশ সিলেটে নেয়ার মতো কেউ না থাকায় ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে ৪-৫ জনের উপস্থিতিতে গোমতী নদীর পাড়ের একটি কবরস্থানে হতভাগ্য জালালের লাশ দাফন করা হয়।
এছাড়া, পুলিশ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেফতার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদšতকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ আইয়ুব খবর তরঙ্গ ডটকমকে বলেন, জালালের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি, তাই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত না হয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব নয়।
তবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী খবর তরঙ্গ ডটকমকে বলেন, নিহতের লিভার বড়, তরল গরম পদার্থে শরীরের বিভিন্ন অংশে চামড়া পোড়া পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, অপমৃত্যু মামলায় গৃহকর্তা এবং সুরতহাল রিপোর্ট ও এজাহারে পুলিশ কি উল্লেখ করল এসব আমার জানার বিষয় নয়- আমি যা পেয়েছি তা-ই লিখেছি আর এটাই ফাইনাল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।