রায়পুর শহরে প্রকাশ্যে রুহুল আমিন কাজির প্রতারণার ফাঁদ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর শহরের মুড়িহাটা মসজিদের পশ্চিম পাশে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে রুহুল আমিন কাজি। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে তার প্রতারণা চললেও সবাই যেন অন্ধ। বাল্য বিবাহ পড়ানো, অতিরিক্ত টাকা আদায়, নকল কাবিননামা তৈরি, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নামে সিল স্বাক্ষর বানিয়ে প্রতারণাই যেন তার নৈমিত্তিক ব্যাপার। রুহুল আমিন ও তার সরকার দলীয় (যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে) পেটুয়া বাহিনী নিজেদের ‘কথিত’ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, কখনো সাংবাদিক ও কখনো র‌্যাব পরিচয় দিয়ে হাতিয়ে নেন হাজার হাজার টাকা। উপরোক্ত অভিযোগগুলো প্রতারণার শিকার ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও মুড়িহাটাসহ আশপাশ এলাকার বাসিন্দাদের। এছাড়াও সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরো নানা তথ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চরমোহনা গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন কাজি অফিসের পেছনে কয়েকটি পাকা কক্ষ রয়েছে। তারমধ্যে দুই সুরম্য কক্ষে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিয়ে করার আগেই কপোত-কপোতিদের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করা হয়। প্রতি রাতের জন্য ২-৩ হাজার টাকা গুনতে হয়। অফিসের সামনের রাস্তার লোকজন যেন বিষয়টি আঁচ করতে না পারে সেজন্য সামনের কলাপসিবল গেইটে তালা মারা থাকে। অবশ্য পেছনে রুহুল আমিন কাজির আত্মীয়-স্বজনরা থাকেন বলে তার দাবি।
যোগাযোগ করা হলে কাজী সমিতির রায়পুর পৌরসভা শাখার সভাপতি মোতাসসিম বিল্লাহ বলেন, ‘রুহুল আমিন ভূয়া কাজী। তার বিভিন্ন ভন্ডামীর কারণে বহুবার পেটানো হয়েছে। কয়েকদিন পরপর তাকে আদালতেও যেতে হয়। বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছি।’
এ ব্যাপারে রুহুল কাজি প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিয়ে করতে ছেলে-মেয়েরা আমার এখানে আসে। কেউ অবৈধভাবে আমার বাসায় ভাড়া থাকলে সমস্যায়তো পড়বেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।