প্রধান মন্ত্রীর কাছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির প্রত্যাশা

আগামী ২০ এপ্রিল শনিবার কুমিল্লায় আসছেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই আগমন উপলক্ষে কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যেন বয়ে যাচ্ছে এক নির্মল বাতাসের ছোঁয়া। একটাই প্রত্যাশা প্রধান মন্ত্রী কুমিল্লার গনমানুষের দীর্ঘদিনের দাবী কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষনা দিবেন। তারই সাথে সাথে কুমিল্লা থেকে ঢাকা সরাসরি রেল লাইন প্রতিস্থাপন করার ঘোষনা দিবেন।
এদিকে প্রধান মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠন ও বিভিন্ন থানা-উপজেলা থেকে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপিত হচ্ছে মিডিয়ার সামনে। তার মধ্যে কুমিল্লাতে আন্তজাতিক মানের একটি ষ্টেডিয়াম তৈরী করন, লাকসামকে জেলা ঘোষনা দেয়ার দাবী অন্যতম।
এরই প্রেক্ষিতে কুমিল্লার সর্বোচ্ছ বিদ্যাপিট, কুমিল্লার প্রান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভিসি প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে তার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। খবর তরঙ্গ ডটকমের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে এ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভিসি। নিচে তাঁর সাক্ষাতকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হলঃ
খবর তরঙ্গ : স্যার কেমন আছেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলুন।
কুবি ভিসি : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি এখন ভালো, ক্যাম্পাসে কোন ছাত্র সহিংশতা, কোন্দল বা অন্যান্য সমস্যা নেই। শুধু মাত্র দেশের অস্থিতিশীল অবস্থার কারনে ক্লাস নিতে অসুবিধা হচ্ছে। আশা করি অচিরেই ইহার সমাধান হবে।
খবর তরঙ্গ : স্যার কিছু দিন থেকে শিক্ষকদের কর্মবিরতির কথা মিডিয়াতে বেশী শোনা যাচ্ছে এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
কুবি ভিসি : শিক্ষকদের সাথে কথা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাঁদের যৌক্তিক দাবী গুলো মেনে নেয়া হবে।
খবর তরঙ্গ : আগামী ২০ এপ্রিল শনিবার কুমিল্লায় আসছেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রধান মন্ত্রীর কাছে আপনার প্রত্যাশা সম্পর্কে একটু বলুন।
কুবি ভিসি : দেখুন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে শুরু থেকে বিভিন্ন প্রতিকুল পরিস্থিতি পাড়ি দিতে হয়েছে। যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ৭ বছর ফেরিয়ে গেলেও একটি পুর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সুযোগ সুবিধা আমরা এখনও ছাত্র-ছাত্রীদের দিতে পারিনি। এখানে রয়েছে আবাসন সংকট, ক্লাসরুম সংকট, একাডেমিক ভবনের স্বল্পতা, সিনিয়র শিক্ষকের অপর্যাপ্ততা, আলাদা ল্যাব ও রিসার্চ সেন্টারের অনুপস্থিতি, আলাদা খেলার মাঠের অনুপস্থিতি। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন প্রায় ৩৫০০ শিক্ষার্থী রয়েছে কিন্তু তার তুলনায় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে রয়েছে। যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পড়াশোনা ও গবেষনা কাজকে ব্যাহত করছে।
এছাড়াও আরো বিভিন্ন ছোট বড় সমস্যা তো রয়েছে। এজন্য আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে একটি দাবীই প্রধান মন্ত্রীর কাছে জানাবো, আর তা হল অন্তত ৫০ একর জমি তাৎক্ষনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিগ্রহন করার ঘোষনা যেন উনি দিয়ে যান। আমরা যদি আরো ৫০ একর জমি পাই তাহলে আমরা আরো একাডেমিক ভবন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মান করতে পারব। যাতে করে আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটের প্রয়োজনীয় চাহিদা কিছুটা হলেও পুরন করতে পারব।
পরিশেষে আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কুমিল্লা সফর যেন সাফল্য মন্ডিত হয় এবং সুন্দর-অনুকুল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এজন্য সংশ্লিষ্ঠ সকলের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
খবর তরঙ্গ : স্যার আপনার মুল্যবান সময় খবর তরঙ্গকে দেয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
কুবি ভিসি : আপনাকেও ধন্যবাদ। পাশাপাশি আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি খবর তরঙ্গ পরিবারের প্রতি এরুপ বস্তুনিষ্ঠ, যুগোপযোগী ও সর্বোচ্চ আপডেট খবর প্রচার করার জন্য। আমি খবর তরঙ্গের উত্তরত্তর সাফল্য ও সমৃদ্বি কামনা করছি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।