প্রশিক্ষনের সুযোগ না দেওয়ায় ঝিনাইদহে আনসারদের বিক্ষোভ

টাকা নিয়ে আনসার মৌলিক প্রশিক্ষনে সুযোগ না দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও আনসার অফিস ঘেরাও করে হরিণাকুন্ডু, শৈলকুপা এবং মহেশপুর এলাকার প্রশিক্ষনেচ্ছু অর্ধশাতাধীক যুবক। এ সময় তারা মহেশপুর আনসার ভিডিপি অফিসের প্রশিক্ষক আক্কাস আলীর কলার ধরে টানা হ্যাচড়া করে এবং তার ব্যবহৃত মটরসাইকেলটি কেড়ে নেয়। এ রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত (সোমবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত) ঝিনাইদহ জেলা আসনার অফিসে জটলা চলছিল। কমিটির মাধ্যমে আনসার বাছাই করে মৌলিক প্রশিক্ষনে ঢাকায় পাঠানোর নিয়ম থাকলেও রোববার সরকারী ছুটির দিন অতি গোপনে ৭০ জন আনসার সদস্যকে বাছাই করার ঘটনা নিয়ে প্রশিক্ষনেচ্ছু যুবকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ঝিনাইদহের শৈলকুপা আনসার কমান্ডার সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেন, আনসারের মৌলিক প্রশিক্ষনে বাছাই পক্রিয়া সচ্ছ হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দালালদের মাধ্যমে মাথাপ্রতি ২০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা এ্যডজুটেন্ট শাহ ফজলে রাব্বী, একই অফিসের কম্পিউটার অপারেটর আকবর আলী ও হিসাব রক্ষক ওয়াহিদুর রহমান অযোগ্য যুবকদের প্রশিক্ষনে পাঠাচ্ছেন। টাকার বিনিময়ে এই বাছাই পক্রিয়া অত্যন্ত গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে বলেনও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশিক্ষনেচ্ছু হরিণাকুন্ডু উপজেলার মাঠআন্দুলিয়া গ্রামের যুবক খোকন মিয়া জানান, আনসার সমাবেশের মাধ্যমে প্রতিযোগী বাছাইয়ের নিয়ম থাকলেও তাদের না জানিয়ে পহেলা বৈশাখে সরকারী ছুটির দিন গোপনে তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। মহেশপুর উপজেলার কালুহুদা গ্রামের শাহাজ্জেল হোসেন অভিযোগ করেন তিনিসহ ১৫ জন যুবক অফিসের কম্পিউটার অপারেটর আকবর আলীর কাছে ২০ হাজার টাকা করে দেন, যাতে মৌলিক প্রশিক্ষনের সুযোগ পান। তিনি আরো জানান, সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা আনসার অফিসে এসে শুনতে পারেন, রোববার সরকারী ছুটির দিন প্রশিক্ষনের জন্য আনসার বাছাই হয়ে গেছে। এ খবর শুনে প্রশিক্ষনেচ্ছু যুবকরা অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, মহেশপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের সাকিল, মাসুদ রানা, একই উপজেলার বজরাপুর গ্রামের বিপ্লব, কালুহুদা গ্রামের মনিবুর, তোতা মিয়া, আল মামুন, সেলিম, শাহাজ্জেল, পুড়োপাড়া গ্রামের রফিকুল, বাথানগাছির সুমন আহম্মেদ, গাড়াবাড়িয়ার আরিফ এবং পুরান্দপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানসহ অন্তত ৫০ জন যুবকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও তাদের প্রশিক্ষনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। মহেশপুর উপজেলা আনসার অফিসের প্রশিক্ষন কর্মকর্তা আক্কাচ আলীও যুবকদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফলে সোমবার ঝিনাইদহে দেখা মাত্র তাকে জামার কলার ধরে লাঞ্চিত ও তার মটরসাইকেল কেড়ে নেয়। হরিণাকুন্ডু উপজেলা আনসার অফিসার ওমর ফারুকসহ প্রতিটি উপজেলার কর্মকর্তারা এই আনসার প্রশিক্ষনের তালিকা নিয়ে ক্ষুদ্ধ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাধারণ আনসারদের অভিযোগ, আনসারদের নতুন নিয়োগ, বদলী, কম্পিউটার ও মৌলিক প্রশিক্ষন, রেশন প্রদান এবং ভোটের ডিউটির টাকা আত্মসাৎসহ নানা রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ঝিনাইদহ জেলা এ্যডজুটেন্ট শাহ ফজলে রাব্বী ও তার দুই কর্মচারী  কম্পিউটার অপারেটর আকবর আলী ও হিসাব রক্ষক ওয়াহিদুর রহমান। তাদের বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যের কাছে হদদরিদ্র আনসাররা অসহায়। প্রশিক্ষনের নামে সরকারের লাখ লাখ টাকা আসনারদের কল্যানে ব্যায় না করে দু হাতে লুটে নিচ্ছেন জেলা কর্মকর্তা। এ সব বিষয় নিয়ে তিন মাস আগে আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিকে তথ্য নির্ভর খবর প্রকাশিত হলেও তার কেশাগ্র কেও স্পর্শ করতে পারেনি। তিনি আনসার ভিডিপির খুলনা ডিডি অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রশিক্ষনের টাকা, রেশন ও নিয়োগ বানিজ্য করে আনসারদের অঙ্গীভুত করে যাচ্ছেন। আঞ্চলিক অফিসের বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা আনসার অফিসার আলাউদ্দীন জানান, মৌলিক প্রশিক্ষনের জন্য রোববার ছুটির দিন আনসার বাছাই চুড়ান্ত করা হয়েছে। তবে কি ভাবে তালিকা হয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি নতুন যোগদান করেছেন বলেও জানান। ঝিনাইদহ জেলা এ্যডজুটেন্ট শাহ ফজলে রাব্বী ছুটিতে থাকায় তিনি এ সময় কর্মস্থলে ছিলেন না। তবে তার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেন নি। তবে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর আকবর আলী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার কিংম্বা অস্বীকার না করে বিষয়টি জেলা আনসার অফিসারকে জিজ্ঞাসা করতে বলেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।