কক্সবাজারে নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে আইনজীবির সহায়তায় বাল্যবিয়ের অভিযোগ

কক্সবাজারে নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে এক আইনজীবির সহায়তায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়–য়া ১০ বছর বয়সি এক অপহৃতা কন্যাশিশুর জোরপূর্বক বিবাহ সম্পন্নের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যপারে কক্সবাজার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ জেলার মহেশখালী দেবাঙ্গা পাড়ার বশির আহমদের শিশুকন্যা, বড় মহেশখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রীটিকে স্কুল ছুটির পর বাড়ী ফেরার পথে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় স্থানীয় আব্দুশ শুক্কুরের বখাটে পুত্র এবাদুল হক (২৫)। এরপর সে ও তার সহযোগিরা ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে।
এদিকে শিশুকন্যা অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি ও এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হলে অপহরণকারি চক্র মামলা থেকে বাঁচতে গত ৯ এপ্রিল কক্সবাজার নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের অসাধু আইনজীবি এ.কে ফজলুল হক চৌধুরীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ আইনের তোয়াক্কা না করে ওই অপহৃতা শিশুটির বিবাহ সম্পন্ন করে। এই আইনজীবি বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে আরো বেশ ক’টি বাল্য বিবাহ সম্পাদন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন বলে জানা যায়। তবে এ ব্যাপারে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয়  পেয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে শিশুছাত্রী অপহরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বড় মহেশখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেদারুল ইসলাম বলেন, ঘটনা যে-ই ঘটাক না কেন নারীশিক্ষার পথ সুগম করতে এসব বখাটেদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।
এঘটনায় শিশুটির খালাতো ভাই ও একটি পত্রিকার কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক এম. জসিম উদ্দিন ছিদ্দিকী কক্সবাজার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাছাড়া শিশুটির পিতা বশির আহম্মদ বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় নারী-শিশু নির্যাতন ও অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মহেশখালী থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আমরা অতিশীঘ্রই অপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধার করে অভিভাবকদের হাতে হস্তান্তর করতে সক্ষম হবো এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম বলেন, যারা এঘটনার সাথে জড়িত তাদের ধরে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া উচিৎ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার বলেন, ঘটনাটি আমার কানে এসেছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মহেশখালী থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।