সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোটি টাকা ভুমি ও ভবন আত্মসাতের পাঁয়তারা

ফেনী সদর উপজেলার মোহাম্মদ আলী বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সহ কোটি টাকা সম্পদ জালিয়তির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভুমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ ও প্রধান শিক্ষক।
সূত্রে জানাযায়, ১৯৭৩ইং সালে স্থানীয় গ্রামবাসী এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় শর্শদী ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী বাজারে মধ্যম কাছাড় গ্রামের আবুল হাসেমের চাপ কবলায় মূলে দানকৃত ৭ডিং ভূমির উপর প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয়। আবুল হাসেম ১৯৭৩ ইং সালে সুন্দরপুর মৌজার ৮৩নং খতিয়ানের ৭ডিসিমেল ভুমি তৎকালিন নোয়াখালীর জেলা প্রসাসকের নামে ৪৮৫০ নং দলিলে চাপকবলা করে দেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা হয়। ২০১০ সালে বর্তমান জরিপে উক্ত ভূমি শিক্ষা বিভাগের নামে ৩নং সরকারী খতিয়ানে ১৪৭ নং হাল দাগে খতিয়ান ভুক্ত করা হয়। ভুমি দাতা আবুল হাসেম মৃত্যুর পর তার স্ত্রী নুর জাহান বেগম থেকে তার ছেলে শাহআলম ভূমিদস্যূ চক্রের সদস্য, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান, স্থানীয় সরকার দল, বিএনপি, জামায়াত ইসলাম সমর্থক একটি চক্র বিদ্যালয় ভবন ও ভুমি গ্রাসের লক্ষ্যে ২০১১সালের ২৫মে ৪১৩১ নং হেবা দলীল সৃজন করে ভুমির মালিক সেজে যায়। একই সাথে ২৯ জুন স্থানীয় ভুমি অফিসের তহশিলদার সুনিল চন্দ্র বৈদ্যের সাথে ৫০হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ অনুযায়ী বিদ্যালয়ের নামে খতিয়ান ভুক্ত ভুমি ও বিদ্যালয় ভবনের জমি শাহআলমের নামে জমাখারিজ করে নেয়। তহশিলদার সুনিল বৈদ্য কাগজে কলমে বিদ্যলায়ের নামে নোটিশ জারী দেখালোও উক্ত নোটিশটি সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমন গোপন করে রেখে দেয়। এতে তহশিলদার একতরফা ভাবে শাহআলমের নামে জমা খারিজের কাগজ তৈরী করে দেয়। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গত ১০মার্চ জমাখারিজ বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করে। এরি মধ্যে সংঘবদ্ধ চক্রটি ২৯মে বিদ্যালয় ভবনের নামফলকটি মুছে ফেলে। পরিচালনা কমিটি স্থানীয়দের সহযোগিতায় নামফলকটি পূর্ন স্থাপন করে। ৩১মে রাতে পূনরায় কালো রং দিয়ে মুছেদেয়। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ৭এপ্রিল ফেনী মডেল থানায় হাজির হয়ে একটি সাধারন ডায়েরী করে। পুলিশ বিষয়টি তদন্তের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়। তিনি তদন্তে সত্যতা পেয়েছে বলে জানালেও পুলিশ কালো টাকার কাছে জিম্মি থাকায় ভূমিদস্যূদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করার অভিযোগ তুলেছেন  এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ করেন, শিক্ষক মিজানুর রহমান সরকারী চাকুরীর পাশাপাশি স্থানিয় একটি কিন্ডার গার্টেন পরিচালনা করেন। স্কুলে সময় না দিয়ে দিনের বেশির ভাগ সময় ভুমির দালালী ও কিন্টার গার্টেনে সময় কাটান।  জেলা শিক্ষা অফিসের পিয়ন আনোয়ার উল্যা শিক্ষক মিজানের চাচা তার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ করেও কোন ফল হয়না।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।