কক্সবাজারে রাখাইনদের ৩দিন ব্যাপি বর্ষবরণ উৎসব

জল ছিটিয়ে প্রেম দেখালো কক্সবাজারের আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা। আর তাদের সঙ্গে এ প্রেমের ছোঁয়ায় উল্লাস করেছেন নানা বয়সী রাখাইন।
রাখাইনদের ৩ দিনব্যাপী জলকেলি উৎসবের প্রথম দিন বুধবার জলের ছোঁয়ায় স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে পুরো রাখাইন পল্লী। এসময় একে অপরকে লক্ষ করে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের সব পাপ, ক্লান্তি আর অসংগতি ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানান রাখাইনরা। বুধবার বিকেল ৪ টায় কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ বিহারের সামনে নির্ধারিত মঞ্চে রাখাইনদের নববর্ষকে স্বাগত জানানোর জন্য বর্ণাঢ্য উৎসবের অংশ হিসেবে এই পানি খেলা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের নারী এমপি অধ্যাপক এথিন রাখাইন। এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন-কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন ও পুলিশ সুপার আজাদ মিয়া। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতা ও কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্য থিং অং। এদিকে রাখাইন সম্প্রদায় জানিয়েছেন, তাদের বর্ষ পঞ্জিকা অনুসারে বর্ষ শেষ হয়েছে ১৬ এপ্রিল, সে অনুযায়ী ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে রাখাইনদের নববর্ষ ১৩৭৫ সাল। রাখাইন বর্ষ ১৩৭৪ সালকে বিদায় এবং ১৩৭৫ সালকে বরণ করতে প্রতিবারের মতো এবারো ৭দিনের বণার্ঢ্য উৎসব আয়োজন শুরু হয়েছে ১৩ এপ্রিল। ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জলকেলি উৎসবের মধ্য দিয়ে এ উৎসব শেষ হবে। শেষ ৩দিনের জলকেলি উৎসবকে ঘিরে বুধবার বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে কক্সবাজার শহরসহ জেলার রাখাইন পল্লীগুলোতে। রাখাইনদের পাশাপাশি অন্য ধর্মাবলম্বীরাও উল্লাস প্রকাশ করছেন নানাভাবে। কক্সবাজার শহরের রাখাইন পল্লীতে তৈরি ১০টি প্যান্ডেলে চলছে এই জলকেলি। এছাড়া জেলার টেকনাফ, মহেশখালী, উখিয়াসহ অন্যান্য উপজেলায় এই উৎসব শুরু হয়েছে।
বুধবার বিকেলে উৎসবের ১ম দিন জলকেলির বিভিন্ন প্যান্ডেল ঘুরে দেখা যায়, রাখাইনদের উৎসব মুখর পরিবেশ। এসময় এলাকা ভিত্তিক রাখাইন নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে সারিবদ্ধভাবে নানারকম বাদ্যযন্ত্র ও নাচে গানে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এসব প্যান্ডেলে পানির পাত্র নিয়ে সারিবদ্ধভাবে ছিলেন রাখাইন তরুণীরা। শোভাযাত্রাসহ প্যান্ডেলে আসা একেকজন তরুণ নিজের পছন্দের তরুণীর গায়ে পানি নিক্ষেপ করে ১ম আমন্ত্রণ জানান। তরুণীটিও তার গায়ে পানি নিক্ষেপ করে সাড়া দেন। তরুণ-তরুণীদের প্যান্ডেল কেন্দ্রীক এই পানি ছোড়াছুড়িতে বড়দের অংশগ্রহন ছিল চোখে পড়ার মত। এদিন শিশু-কিশোরদেরও প্যান্ডেলের আশেপাশে জলকেলিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।
এই আনন্দ উৎসব নিয়ে রাখাইন যুবক উক্যং চিং মং জানান, ৩ দিনের সমাপনী উৎসবকে তাদের ভাষায় বলা হয় মাহা সাংগ্রেং পোওয়ে। সকালে এলাকা ভিত্তিক শোভযাত্রা বৌদ্ধ কৈয়াংয়ে যায়। এসময় বাদক এক বিশেষ ঘণ্টা বাজিয়ে কৈয়াংসহ প্যান্ডেল পরিদর্শনের নিদের্শনা দেয়। এই শোভযাত্রায় তরুণরা মাটির কলসী ও পেছনে বয়স্ক নারী-পুরুষ কল্প- তরু বহন করেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।