পাহাড় ও গাছ কেটে চলছে সোনাইছড়ির ইটভাটা

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সোনাইছড়ির ৩নং ওয়ার্ড এলাকায় সরকারী নিয়মনীতি লঙগন করে বুল্ডোজার দিয়ে পাহাড় কেটে তৈরি করা হচ্ছে নিম্ন মানের ইট। অন্যদিকে প্রভাবশালী মহলের প্রভাব কাটিয়ে সরকারী নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে ইট ভাটায় প্রকাশ্যে অবাধে পুড়ানো হচ্ছে কাঠ। আলী আকবর সওদাগরের মালিকানাধীন ফাইভ স্টার বীচ ব্রীক ফিল্ডে প্রতিদিন বুল্ডোজার দিয়ে পাহাড় কেটে ওই মাটি দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে নিম্ন মানের ইট। তার সাথে পাল্লা দিয়ে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে পাশ্ববর্তী বনের কাঠ। ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে উপজেলা বনাঞ্চল। সূত্রে জানা যায়, ইট ভাটায় সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ, ভূমির উর্বরতা হ্রাস, বন উজাড় ইত্যাদি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসন ও বন বিভাগকে ম্যানেজ করে নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়িতে ফাইভস্টার বীচ ব্রিক ফিল্ডের রাস্তার পার্শ্বে সংরক্ষিত সরকারী গাছ কেটে পোড়ানো হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড় কেটে তৈরী হয়েছে তিনটি ইট ভাটা। যার মধ্যে দু’টি বাংলাভাটার আদলে তৈরী ইট ভাটা। সরেজমিনে দেখা যায়, সোনাইছড়ি ৩নং ও ২নং ওয়ার্ড এলাকায় আলী আকবর সওদাগরের ফাইভ স্টার বীচ ব্রিক ফিল্ডে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ইট ভাটার চারিপাশের গাছ পালার সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে এ ইটভাটা সংলগ্ন রাস্তায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর সুবিধাভোগী ও ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে লাগানো গাছ রাতের আধারে কেটে নিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এছাড়া এসব ইটভাটার কারণে অন্যান্য গাছ পালাও মরতে শুরু করেছে। সামাজিক বনায়নের লাখ লাখ গাছ পালায় ঘেরা সবুজ ছায়া পাহাড়ের গভীর অরন্যে এই গাছপালা ও পাহাড় বুল্ডোজার দিয়ে দিয়ে কেটে সাবাড় করে কিভাবে ইটভাটা হচ্ছে এ নিয়ে বনবিভাগ বা প্রশাসনের নেই কোনরকমের হস্তক্ষেপ। আইন থাকলেও নেই তার প্রয়োগ। জানা যায়, ইটভাটার মালিকরা দাপটের সাথে এলাকাবাসীকে জানিয়েছে, সবকিছু ম্যানেজ করেই তারা এ ইটভাটা স্থাপন করেছে। উপজেলা বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাহাড় কেটে গহীন অরণ্যে ইট ভাটা তৈরী করার কারণে গাছপালা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দূষণ হচ্ছে পরিবেশ, পরিবেশের অন্যতম প্রধান উপাদান পাহাড়ের সব মাটি কেটে নিয়ে আসছে ইট ভাটায়। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ধ্বংস করে দিচ্ছে পরিবেশ রক্ষাকারী পাহাড়। সরকার ঘোষিত পদ্ধতি ছাড়া যত্রতত্র বাংলাভাটার আদলে ইটভাটা তৈরি করে অবাধে কাঠ পোড়ানোর ফলে এর বিষাক্ত কালো ধোয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় জনসাধারণ ও সার্বিক পরিবেশ। ওই ইটভাটাগুলো তৈরির কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ অসন্তোষ বিরাজ করলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।