কক্সবাজার কলাতলীতে পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি চলছে: আধিপত্য বিস্তারে অস্ত্রের মহড়া

কক্সবাজারের কলাতলীতে চলছে পাহাড় কাটা। পাহাড় কাটার পরে বাড়ির করার উপযোগী প্লট বানিয়ে তা বিক্রি করা হচ্ছে  প্রকাশ্যে। নির্বিচারে পাহাড় কেটে সমতল করে তাতে অবৈধ স্থাপনা ও বসতি গড়ে তুলেছে স্থানীয় জলদস্যু আবুল হোসেনের নেতৃত্বে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুর দল। আর এ কাজে শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে। আর পাহাড় কাটায় বাধা দিলে আধিপত্য বিস্তারের অস্ত্রের মহড়া দিয়ে হুমকি দিয়ে আসছে ওই সন্ত্রাসী।
জানা যায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বনভিাগের ঝিলংজা বিটের আওতাধীন ১ নং খাস খতিয়ান ভুক্ত কলাতলীর দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম এলাকার বিশাল পাহাড় কেটে সমতল করে তাতে অবৈধ স্থাপনা ও বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্লট আকারে বিক্রি করছেন কলাতলীর মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন, আবু তালেব ও মুহাম্মদ সিদ্দিক, আবু শামা, তালেক সন্ত্রাসী ইলিয়াছের নেতৃত্বে এক প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র। এ কাজে সহযোগিতা করছেন তারই পাহাড় কাটার সহযোগী  মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী হাজেরা, আবদুর রহিমের স্ত্রী এলমুন নাহার, জাকারিয়ার ছেলে মোহাম্মদ মো. করিম, শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুর রহমান, গিয়াস উদ্দীন, শামসুল আলমসহ কতিপয় সিন্ডিকেট চক্র। সরেজমিন দেখা গেছে, কলাতলীর দক্ষিণ আদর্শ গ্রাম এলাকার বন বিভাগের বিশাল পাহাড় কেটে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ চলছে এবং পাশাপাশি কয়েকজন শ্রমিককে মাটি কাটছে। ইতোমধ্যে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ৩০টির মতো পাঁকা-আধা পাঁকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে। এ বাড়ি কাদের, জানতে চাইলে, স্থানীয়রা জানায় ইলিয়াছ, মোহাম্মদ ছিদ্দিক, তালেব, হাজেরা এলমুন নাহার, আবু শামা, গিয়াস উদ্দিন, করিম, আবদুর রহমান, কাজী রফিকুল ইসলামসহ নাম না জানা আরো কয়েকজনের। এদের সহযোগিতায় পাহাড় কেটে সমান করা জমি প্রতি গন্ডা ৩-৪ লাখ টাকা এবং উচু এলাকায় প্রতি গন্ডা ২-৩ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করছেন আবুল হোসেন, আবু শামা, তালেকসহ সিন্ডিকেট চক্র। এই বিধ্বংসী র্কর্মকান্ড প্রকাশ্যে চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় কিনা জানতে চাইলে মাঝে মধ্যে বনবিভাগের কর্মকর্তাদের আসতে দেখা যায় বলে জানায় স্থানীয়রা। তবে অনেক সময় বনবিভাগের কর্মকর্তারা ম্যানেজও হয়ে যায় বলে জানায় তারা। তেমনি গত কয়েকদিন আগেও বনবিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বনবিভাগের স্পেশাল সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বনবিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর পেয়ে মাটি কাটার শ্রমিকরা পালিয়ে যায়।
সূত্রটি আরো জানায়, বিট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে চলে আসার পর গেল বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে মাটি কেটে সমতল করার কর্মকান্ড।
জানা যায়, র্দীঘদিন ধরে এ এলাকায় চলছে নির্বিচারে পাহাড় কাটা। গেল বর্ষাকে পুঁজি করে পাহাড় কাটা আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে প্রতি দিন সকাল বিকাল ও রাতে চলছে পাহাড় কাটার ব্যস্ততা। প্রভাবশালীদের ইন্ধনে ও প্রশাসনের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক সাবাড় করা হচ্ছে পাহাগড় করা হচ্ছে পাহাড়। অথচ ১৯৯১ সালের ঘুর্ণিঝড়ের পরে পুনর্বাসন হিসেবে তাদেরকে বসবাস করার জন্য ওই পাহাড়ে স্থান  দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা এখন সিন্ডিকেট করে কক্সবাজারের পরিবেশ বান্ধব ও ঐতিহ্য হানি করতে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে। আর তাতে বাধা দিলেই নেমে আসে নির্যাতন। এরকম গত কিছুদিন আগেই পাহাড় কাটা ও প্লট বিক্রির বাধা প্রদান করায় স্থানীয় শামসু, আনোয়ার, দিদার সালাম, নুরুল আমিনসহ কয়েজনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালীরা পাহাড়ের ওপর জায়গা কিনে হত দরিদ্রদের ভাড়া দিয়ে থাকে এবং হতদরিদ্রদের কাছ ফুসলিয়ে জায়গা ক্রয় করে বিশাল টাকায় বিক্রি করারজন্যও ছড়াও হয়ে উঠেছে।  ভাড়াটিয়াদের অধিকাংশ রোহিঙ্গা ও যাযাবর শ্রেণীর লোক। যার কারণে মালিকপক্ষ তাদের সাথে পাহাড় কাটার সমঝোতা করে বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকে। এর ভিত্তিতে রোহিঙ্গা ও যাযাবর শ্রেণীল লোকজন ধীরে ধীরে পাহাড় কেটে কিছুটা সমতল করে ঝুকিপূর্ণ স্থানে বসতি তৈরি করে। তাতে বসবাস শুরু করে।
গেল বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ে বসবাসকারীরা প্রতিযোগিতা করে পাহাড় কাটায় নেমে পড়ে। চলে নির্বিচারে পাহাড় কাটা। পহাড় কাটা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়।  মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু, মানুষ মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে পাহাড় আকড়ে ধরে বসে থাকে। পাহাড় ছেড়ে কোন মানুষ নিরাপদ আশ্রয় যেতে চায় না।
তবে প্রশাসনের এ উদ্যোগ যথাযথ নয় বলে দাবি স্থানীয়দের। তাদের মতে, পাহাড় কাটা রোধে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার ভূমিকা একেবারেই উদাসীন। কেবল বর্ষা এলেই মাইকিং করার মধ্য দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।