টেকনাফ থানায় ২১ জন দালালের বিরুদ্ধে নিহতের স্ত্রীর মামলা

চোরাইপথে সাগর দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আদম পাচারকারী ২১জন দালালের বিরুদ্ধে অবশেষে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা হয়েছে। আদম পাচারকারী দালালের খপ্পরে পড়ে সাগর দিয়ে চোরাই পথে স্বপ্নের মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে সাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহত হতভাগ্য আবুল কালামের সদ্য বিধবা স্ত্রী মুবাশ্বেরা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলা নং-৩৪/১৯২। ধারা বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩০২/৩৪। এতে ২১ জন দালালকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল ১৯ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ গতকাল একজন অভিযুক্তকে আটক করেছে। অভিযুক্তরা হচ্ছে- কাটাবনিয়া আবদুল খালেকের পুত্র আবদুল হামিদ (৩৮), আবদুল মাজেদের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম(৩০), কচুবনিয়া মোজাফ্ফর আহমদের পুত্র গুরা মিয়া (২৮), ছিদ্দিক আহমদের পুত্র ইমান হোসন (৩২), আবদুল খালেকের পুত্র সব্বির আহমদ (২৭), খুরেরমুখ মৃত আলী হোছনের পুত্র  আবদুস সালাম (২৬), আবদুল করিমের পুত্র আকতার হোসেন (২৬) ও মোঃ জামাল (২৪), মুন্ডারডেইল নজির হোছনের পুত্র নুরুল আমিন (৩২), মৃত আবুল কাসেমের পুত্র আবদুর রহমান (২৭), কোয়াইংছড়িপাড়া আবদুল জব্বার ফকিরের পুত্র আবদুল মাজেদ (৩৫) ও মৃত আবদুল হাকিমের পুত্র মোঃ হারুন (২৫), পুরান পল্লানপাড়া সালেহ আহমদের পুত্র মোঃ সরওয়ার (২৫), আলীরডেইল খুইল্ল্যা মিয়ার পুত্র জাফর আলম (৩২), উত্তর শীলখালী মৃত সুলাইমানের পুত্র নুরুন্নবী (৪৫), গোদারবিল মৃত আবদুস শুক্কুরের পুত্র হাফেজ আহমদ(৪০), উনছিপ্রাং মৃত গোরা মিয়ার পুত্র রশিদ আহমদ(৪০), ফজল করিমের পুত্র কামাল উদ্দীন (৩২), মুচনীর মৃত ছৈয়দ হোছনের  পুত্র মোঃ আলী (৩৫), কুতুবদিয়া পাড়ার জেবরমুল্লুকের  আবুল কালাম (৩৮), নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ই ব্লক শেড নং-৯৬৯ মৃত শরীফ হোছনের পুত্র সিরাজুল হক (৩৮)। গত ৫ এপ্রিল সাবরাং কাটাবনিয়া ঘাট দিয়ে ৫০/৬০ জনের মালয়েশিয়া গামী একটি দল গভীর বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির শিকার হয়। পরদিন সাগর সৈকতে মুবাশ্বেরার স্বামী আবুল কালামের লাশ পাওয়া যায়। নিহত আবুল কালামের বাড়ি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনছিপ্রাং গ্রামে। এদিকে মামলায় হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আলীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি দাবী করেছেন আদম পাচারের  সাথে তিনি জড়িত নেই। বরং আদম পাচারকে তিনি মনে প্রাণে ঘৃণা করেন। একটি প্রভাবশালী মহল হয়রানী করতে অহেতুক ফাঁসাতে তার নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত কামনা করেছেন। এই মামলাটি টেকনাফ মডেল থানার সাব -ইন্সপেক্টর মোঃ ইয়াসিন তদন্ত করেছেন  বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য চোরাই পথে সাগর দিয়ে অবৈধভাবে আদম পাচারের ঘটনায় ব্যক্তি উদ্যোগে এটাই প্রথম মামলা। অবশ্য এর আগে পুলিশ ও বিজিবি, কোস্টগার্ড বাদী হয়ে আদম পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।