রামুর ওসির বিরুদ্ধে ভূমি বাণিজ্যের অভিযোগ: হিমছড়িতেই নির্মাণ হচ্ছে তার সুরম্য ভবন

কক্সবাজারের রামু থানার ওসি গাজী শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে জায়গা জমির ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, যোগদানের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি থানায় দায়িত্বরত নিজ সরকারি পেশার বাইরে তার নিজস্ব থানা এলাকার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে জায়গা-জমি দখল-বেদখল ও ক্রয়-বিক্রয় কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে প্রচুর বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন। শুধু তাই নয়, ওসি স্বনামে-বেনামে কক্সবাজার-টেকনাফ নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ রোডে বেশ কয়েক খণ্ড জমি ক্রয় করেছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে। জানা গেছে, স্থানীয় হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপ মৌজায় পেঁচারদ্বীপ মসজিদের পাশে কিছুদিন আগে ওসি শাখাওয়াত ৪ গণ্ডা জমি ক্রয় করেছেন। বর্তমানে সেখানে ১০/১৫ জন শ্রমিক হরদম উন্নয়ন কাজ করে জমিটিতে সুরম্য একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিচ্ছেন। একারণে সাম্প্রতিক সময়ে ওসি শাখাওয়াত প্রতিদিনই সেখানে ট্রাকে ট্রাকে নির্মাণ সামগ্রি পাঠাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে এই জায়গার কেয়ার-টেকার আবুল কাশেম জানান, ওসি সাহেব স্থানীয় করিমের ভাগিনা আলীর কাছ থেকে উপযুক্ত মূল্য দিয়েই জায়গাটি কিনেছেন। তবে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে রামু থানার ওসি সেখানে নিজের জায়গা-জমি ক্রয় করার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। যোগদানের পর থেকে আমি আমার থানা এলাকায় এক ইঞ্চি জায়গাও ক্রয় করিনি। তবে ওসির এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে পেঁচারদ্বীপ এলাকার বেশকিছু লোক নাম প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করে এই প্রতিবেদককে জানান, রামু থানায় যোগদানের পর থেকেই ওসি এখানে জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়, দখল-বেদখলসহ ভূমি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি জনৈক করিমের ভাগিনা আলীর কাছ থেকে এই ৪ গণ্ডা জমি গন্ডাপ্রতি ৫ লাখ করে ক্রয় করেন। অথচ এখানে প্রতিগন্ডা জমির মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা হলেও সংশ্লিষ্ট জমিদাতা সম্ভবত ওসি শাখাওয়াতকে ভয় পেয়ে বা অন্যকোন রহস্যজনক কারণে এত কমমূল্যে এই জমিটুকু দান করেছেন।
স্থানীয় অপর এক রাজনৈতিক নেতা জানান, চাকুরি করতে এসে ওসি স্বনামে-বেনামে এখানকার জমি নেওয়াটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা তিনি জানেন না। তবে এইটুকু বুঝেছেন, এই ওসি ভূমিলোভী। শুধু তাই নয়, সরকারি  চাকুরি করে রামু থানায় যোগদানের অল্পসময়ে প্রায় ২০ লাখ টাকায় ওসির জায়গা ক্রয় ও তাঁর আয়ের উৎস নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তড়িৎ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে অদূর ভবিষ্যতে এ ধরনের দূর্নীতিবাজ হ্রাস পাবে।
সূত্র মতে, হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপ পর্যটনের অমিত সম্ভাবনাময় এই এলাকায় শুধু ওসি শাখাওয়াত নয়, কক্সবাজারের আরো বেশকিছু বাঘাবাঘা দূর্নীতিবাজের জায়গা-জমি রয়েছে বলে জানা গেছে। যারা ইতোপূর্বে ও বর্তমানে জেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বপালন করছেন, এরকম বেশকিছু লোকজনের জায়গা এই অঞ্চলে বেশি বলে জানান সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসি।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।